ধসে পড়ছে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ভবন
পরিত্যক্ত ঘোষণার ২ বছর পর অবশেষে ধসে পড়ছে কক্সবাজারের প্রাচীন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ভবন। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাটি সরে যাওয়ায় ভবনটি ধীরে ধীরে বাঁকখালী নদীর দিকে হেলে পড়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে এ অবতরণ কেন্দ্রকে ঘিরে ব্যবসা কার্যক্রম চালানো অসংখ্য ব্যবসায়ী চরম ভোগান্তি পোহানোর আশঙ্কায় উৎকণ্ঠিত রয়েছেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ম্যৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক।
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. শরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, বঙ্গোপসাগরসহ আশপাশের নদী এলাকায় শিকার করা মৎস্য সারা দেশে সরবরাহ করার প্রক্রিয়া করতে শহরের ফিশারীঘাট এলাকায় ৯০ দশকে তৈরি করা হয়েছে তিন তলা ভবনের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি। সরকারের মৎস্য অধিদফতরের করা ২২৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের ভবনটির অবস্থান বাঁকখালী নদীর কিনার ঘেষে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌপথে মাছ এনে এ অবতরণ কেন্দ্রে নামানো হতো। কিন্তু নদীর জলের ঝাপটায় নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে চলে যায় দীর্ঘ অর্ধযুগ আগে। এরপরও কোনোমতে ম্যৎস্য অবতরণ করানো হলেও অতি বিপদজনক হওয়ায় বিগত দু’বছর আগে তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এ ভবনটি সোমবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ দেবে যেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তা বাঁকখালী নদীর দিকে হেলে যাচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এ পরিস্থিতি দেখে সাধারণ লোকজন আতঙ্কে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করলে এখানে জনসমাগম বন্ধ করে দেয়া হয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানানো হয়। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন এলাকাটি সীলগালা করে দেয়। পরে ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনীর একটি দল অবস্থান করছে।
কক্সবাজার দমকল বাহিনীর স্টেশন ম্যানেজার আবদুল মজিদ জাগো নিউজকে জানান, খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনটির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে বেশ কয়েকদিন আগে। এখন হেলে পড়ায় তা সীলগালা করে দেয়া হয়েছে। ভবনের কাছাকাছি এলাকায় বাঁকখালী নদীতে বোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে।
কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়নাল আবেদীন হাজারী জাগো নিউজকে জানান, জেলার সব ধরনের মৎস্য ব্যবসার কার্যক্রম এ অবতরণ কেন্দ্রকে ঘিরে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পর থেকে এটি একটি আতঙ্কের স্থানে পরিণত হয়। কমে যায় মৎস্য ওঠানামা। সোমবার তা ধসে পড়ছে খবর পেয়ে মৎস্য ব্যবসার উপর নির্ভরশীল অসংখ্য লোকজনের মাঝে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগিদ দেয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ব্যবসায়ীদের এ অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে একজন নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সব ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।
সায়ীদ আলমগীর/এমজেড/পিআর