ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা জাদুঘরটি সরকারিকরণের দাবি
রাজবাড়ীতে সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা মহান মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘরটি সরকারিকরণের দাবি জানিয়েছেন জাদুঘরটির উদ্যোক্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী।
নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও স্মৃতি সংরক্ষণ করে এর ইতিহাস সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ২০০১ সালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের কাশিমা গ্রামে অাড়াই শতক জমির উপর এ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘরটি গড়ে তোলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা গিয়াস। জাদুঘরটি চৌ-চালা টিনের ঘরে স্থাপতি।
২০০৯ সালে জাদুঘরটি মুক্তিযুদ্ধ ট্রাস্টিসহ বিবিসি প্রতিনিধিরা পরিদর্শন শেষে ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন হয় এবং সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

জাদুঘরটিতে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অাসেন দূর দূরান্ত থেকে। এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকার ছবি সম্বলিত অালোক চিত্র। সপ্তাহের প্রতিদিনই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে জাদুঘরটি।
জাদুঘরটিতে রয়েছে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দের স্বাধীনতা সংগ্রাম, জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতিমূলক ছবি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মারকসহ ভারতীয় কল্যাণী ক্যাম্পের কিছু দুর্লভ ছবি, প্রাচীন যুগ, জাতির পিতা গ্যালারি, ভাষা সৈনিক প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াজেদ চৌধুরী গ্যালারি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন কাজী হেদায়েত হোসেন গ্যালারি, সামরিক শাসনবিরোধি অান্দোলন, ১৯৬৯ এ গণ অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস, বিভিন্ন পত্র পত্রিকার কাটিংসহ ৫শর বেশি অালোকচিত্র।
মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম মোস্তফা গিয়াস জানান, জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করলেও মহান মুক্তিযদ্ধের ইতিহাস এখন সবাই ভুলতে বসেছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সবাইকে জানাতে ও নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ যাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত করেন। অাস্তে অাস্তে তিনি এ জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধকালীন দালিলিক প্রমাণসহ অনেক ছবি সংরক্ষণ করেছেন। জাদুঘরটির পরিসর অারো বৃদ্ধিসহ এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। কিন্তু নিজ উদ্যোগে যা করেছেন এর বেশি অার করতে পারছেন না। তাই তিনি জাদুঘরটি সরকারিভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু নাসার উদ্দিন জানান, এটি অাসলেই একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাদুঘরের জন্য সহযোগিতা করা হবে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক গোয়ালন্দের ২ থেকে ৩টি স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যা ওই জাদুঘরের সহায়ক হিসেবে কাজে করবে।
রুবেলুর রহমান/এফএ/আইআই