ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চলনবিলে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

জেলা প্রতিনিধি | সিরাজগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৯:৩৭ এএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭

খাদ্য-শস্য ভাণ্ডার চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের ১০টি গ্রামে চলতি বছর ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ নিয়ে কৃষকরা শঙ্কিত। অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন ও খাল-জলাশয়ের মুখ ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করেছে কৃষকরা।

জলাবদ্ধতায় ইতোমধ্যে প্রায় দেড়শত বিঘা বোরো ধানের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এলাকার কৃষকরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাচ্ছে না।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে কৃষি ধানি জমি কেটে পুকুর খনন ও রাস্তার নালা বন্ধ করে অপরিকল্পিতভাবে জায়গা দখলের হিড়িক চলে। জলাবদ্ধতার কুফল তাড়াশের প্রায় ১০/১২টি গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক বুঝতে পেরেছে। চলতি মৌসুমে তাড়াশ উপজেলার শোলাপাড়া, বিদু মাগুড়া, শান্তান, সাচতান, শ্রীকৃষ্ণপুর, বোয়ালিয়া, খুটিগাছা, ভায়াট, কাউরাইল, দক্ষিন মথুরাপুর, সোনাপাতিল, তাড়াশ সদর গ্রামের বিভিন্ন মাঠে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে ওই সকল মাঠের কৃষক এবার তাদের জমিতে সরিষা, গম ও ভুট্টার আবাদ করতে পারেনি। এমনকি চলতি মৌসুমে তারা বোরো ধানের আবাদ করা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছে। একদিকে জলাবদ্ধতা অপরদিকে বৃষ্টির পানিতে প্রায় দেড় শত বিঘায় বোরো ধানের বীজতলা পানির নীচে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এখনও ওই সকল মাঠে কোথাও কোথাও হাটু ও কোমর পানি পর্যন্ত রয়েছে। আর ক’দিন পরই শুরু হবে বোরো ধান রোপন করার কাজ।

sirajganj

শোলাপাড়া গ্রামের কৃষক মদন মহন সরকার, প্রকাশ চন্দ্র সরকার, শ্যাম মাস্টার, বিদু মাগুড়া গ্রামের কৃষক হজরত, মানিক, অনিল চন্দ্র, বিল্টু, বোয়ালিয়া গ্রামের আফছার, রওশোন, আব্দুল গফুর, সোলায়মান, শান্তান গ্রামের নিল কমল, খলিলুর রহমান, তাড়াশ সদর গ্রামের মোতালেব, জালাল, রইচ, ভাদাস গ্রামের কৃষক আফছার, জলিল, আজমত ও রফিক অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালী একটি মহল জমির শ্রেণি পরিবর্তন না করে এবং কোনো প্রকার সরকারি অনুমতি ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করছে।

কৃষকরা আরও জানান, পানি নিষ্কাশনের পথে পুকুর খনন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে প্রভাবশালী একটি মহল। তাছাড়া রাস্তার নালা মাটি দিয়ে ভরাট করে জায়গা দখলের ফলে নালা দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে না পেরে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় কিছু কিছু স্থানে পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করলেও পরে প্রভাবশালী পুকুর মালিকরা তা আবার বন্ধ করে দিয়েছে।

কৃষক মোতালেব জানান, আসলে একজন কৃষকের পক্ষে কী সম্ভব প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার। সচেতন মহলের অভিমত প্রশাসনিকভাবে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এবার তাড়াশে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, জলাবদ্ধতায় প্রায় ১শ বিঘা জমির বীজতলা পানির নিচে পড়ে ছিল। কৃষক ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় পুকুরের পাড় কেটে পানি নিষ্কাশনের পথ সৃষ্টি করে দেয়ায় কিছুটা পানি রেব হয়ে কমে গেছে এবং বীজতলা জেগে উঠেছে।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম ফেরদৌস ইসলাম বলেন, কৃষকরা আমার কাছে অভিযোগ ও মৌখিকভাবে বলেছেন, আমি বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিসারকে বলেছি, কৃষককে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। প্রয়োজনে কৃষককে পুলিশের সহযোগিতা নিতে বলেছি। এমনকি থানায় থানায় জিডি করার পরামর্শ দিয়েছে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমএএস/আইআই

আরও পড়ুন