ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পর্যটকদের দুর্ভোগ কমাতে কউক'র নতুন সিদ্ধান্ত

সায়ীদ আলমগীর | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০৬:০০ পিএম, ০৩ জানুয়ারি ২০১৮

পরিকল্পিত পর্যটনের পথে হাটছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের পুরো এলাকা যেন ব্যবহৃত হতে পারে সে লক্ষ্য মাথায় নিয়েই একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে বসানো অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার তুলে দিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যে স্বউদ্যোগে কাউন্টার সরিয়ে নিত সংশ্লিষ্ট বাস ও হোটেল কর্তৃপক্ষকে লিখিত নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে আগামী তিনদিনের ভেতর নির্দেশনা কার্যকর করার তাগাদা দেয়া হয়েছে। অন্যথায় মামলা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেছে কউক কর্তৃপক্ষ। এমনটি জানিয়েছেন কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ।

কউক সূত্র জানায়, যানজট নিরসনে কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে লালদীঘিরপাড়া পর্যন্ত গড়ে উঠা যত্রতত্র বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে এসব বাস কাউন্টার সরিয়ে ফেলার জন্য প্রত্যেক বাস কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে পত্র। পর্যটকদের সুবিধার্থে ও চলমান যানজট নিরসনের লক্ষে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, হোটেল-মোটেল জোনের কলাতলী থেকে হলিডে মোড় পর্যন্ত এলাকায় সড়কের লাগোয়া হোটেলগুলোর নিচে প্রতিযোগিতা মূলকভাবে কাউন্টার বসিয়েছে। এসব কাউন্টারের কারণে পর্যটন মৌসুম ও বিশেষ বিশেষ দিনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে যানচলাচল দূরে থাক তখন পায়ে হাটাও দূরূহ হয়ে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় পর্যটকসহ পথচারিদের।

এ সমস্যা নিরসনে বার বার দাবি তুলে আসছিলেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। চলমান বাস্তবতায় সেই দাবির যুক্তিকতা খুঁজে পেয়ে দুর্ভোগ এড়াতে কাউন্টারগুলো সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে কউক। চিঠিতে এসব তথ্য বাস মালিকদের জানানো হয়েছে।

cox

সূত্র আরও জানায়, হোটেল-মোটেল জোনের যানজট নিরসনে গত সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসন ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যৌথ সভা করেছে কউক। সেখানেই কাউন্টারগুলো তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপরই সব বাস কাউন্টার ও মালিকদের প্রতিনিধি বরাবরে পত্র পাঠায় কউক।

তবে, এ সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়নি বলে দাবি করেছেন মোহাম্মদীয়া গেস্ট হাউজের ব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান।

তার দাবি, কলাতলী এলাকার কাউন্টারগুলো তুলে দেয়া হলে পর্যটকের ভোগান্তি বাড়বে। বাস টার্মিনালে নামা পর্যটকরা প্রায় সময় সিএনজি ও টমটম চালকদের টানাটানিতে হয়রানির শিকার হয়। এখন পর্যটকরা হোটেলের সামনে থেকে ফিরতে বাসে উঠতে পারছেন। ফলে অর্থ-সময় দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে পাশাপাশি হয়রানি এড়াতে পারছেন তারা। এছাড়াও এখনও রাত ৮টার পরই ফিরতি বাসগুলো এখান থেকে যাত্রি তুলছে। রাতের সময়ে যানজট হওয়ার কথা নয়। এসব লিখে কউককে সিদ্ধান্ত পাল্টানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিছু হোটল ব্যবসায়ী বলেন, যেসব হোটেল বাস কাউন্টার বসিয়ে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে তারাই কাউন্টার রেখে দেয়ার তদবির করছেন। কিন্তু পর্যটনের স্বার্থে কাউন্টারগুলো তুলে দিয়ে ফিরতি যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বাস এসে নিয়ে গেলে পর্যটক ভোগান্তি কমবে। হোটেল মোটেল জোন এলাকায় পায়ে হেটে চলতেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করে পর্যটকসহ স্থানীয়রা।

জানতে চাইলে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ যানজট নিরসনে কউক কাউন্টার তুলে দেয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বীকার করে বলেন, আগামী তিনদিনের মধ্যে যত্রতত্র ছড়ানো সকল বাস কাউন্টার সরিয়ে ফেলতে হবে। নিজেরা না সরালে আইনি ব্যবস্থা নিবে কউক।

তবে কাউন্টার ও বাস কর্তৃপক্ষের দেয়া স্মারকলিপিটির বিবেচনায় আগামী ৯ তারিখ যৌথসভায় বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

এমএএস/জেআইএম

আরও পড়ুন