ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বিশ্ব ইজতেমায় ৮ স্তরের নিরাপত্তা

জেলা প্রতিনিধি | গাজীপুর | প্রকাশিত: ০৯:২৭ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০১৮

আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে দুই পর্বের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা। ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের আট স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ইজতেমার ফলোআপ সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এম বজলুল করিম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হেলাল উদ্দীন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম রাহাতুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান, বিশ্ব ইজতেমার মুরব্বি ইঞ্জিনিয়ার মেজবাহ উদ্দীন, ড. রফিকুল ইসলাম, মো. গিয়াস উদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, ইজতেমার মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে ৮ স্তরের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ জন্য সাত হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য র্যাবের আড়াই হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।

নিরাপত্তার জন্য ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার, ৪১টি সিসি ক্যামেরা, নৌ টহল, আর্চ ওয়ে, মেটাল ডিটেকটর দিয়ে তল্লাশি, বোম ডিস্পোজাল টিম, ও ভিডিও ধারণ করা হবে। মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশের উদ্যোগে প্রতিটি খিত্তায় ৬ জন করে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

প্রস্তুতিমূলক সভায় জানানো হয়, ইতোমধ্যে ইজতেমা ময়দানে তাঁবু টানানোর কাজ প্রায় শেষের দিকে রয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিফোন সংযোগ, পানি সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা ময়দানে কাজ করছেন।

বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র্যাব, আনসার ও ভিডিপি পৃথক ৫টি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের অভিনন্দন ও স্বাগত জানাতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিশ্ব ইজতেমা মাঠের প্রবেশ পথে ১৩টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষে থেকে ১৫টি, র্যাবের পক্ষ থেকে ৯টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের ওযু, পয়ঃনিষ্কাষণ ও সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্য ইজতেমা মাঠে স্থাপিত ১৩টি গভীর নলকূপ দ্বারা ১৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটিার পাইপ লাইনের মাধ্যেমে প্রতিদিন ৩ কোটি ৫৪ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি সরববরাহ নিশ্চিত করা হবে।

ইজতেমা চলাকালীন ২১টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে দিন-রাত বর্জ্য অপসারণ করা হবে। বিশ্ব ইজতেমার উপলক্ষে টঙ্গী ও আশপাশ এলাকার সিনেমা হল সমূহ বন্ধ এবং দেয়ালের অশ্লীল পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ইজতেমা মাঠের চারপাশের রাস্তার ধূলাবালি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ইজতেমা মাঠে আগত বিদেশি মেহমানদের রান্নার জন্য ১৩৬টি গ্যাসের চুলা স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া মুসল্লিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন এলাকায় ৪৫ টি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম

আরও পড়ুন