ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সৌদিতে নিহত দুই শ্রমিকের বাড়ি টাঙ্গাইলে

জেলা প্রতিনিধি | টাঙ্গাইল | প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০১৮

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে দু’জনের বাড়ি টাঙ্গাইলে। তাদের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। নিহত দু’জনের মরদেহ দ্রুত ফিরে পাবার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে সদস্যরা এখন দিশেহারা। সরকারের কাছে আর্থিকভাবে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তারা।

নিহত দু’জন হলেন, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের আব্দুর রহিম মিয়ার ছেলে আমিন মিয়া (৩২) এবং কালিহাতী উপজেলার কস্তুরিপাড়া এলাকার হামেদ আলীর শফিকুল ইসলাম (৩৫)।

এদিকে নিহত আরেকজন কালিহাতীর শফিকুল ইসলামের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। বাড়ির লোকজন তাদের পরিবারের অন্যতম সদস্যকে হারিয়ে একেবারে দিশেহারা। মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা বারবার শোকে মূর্ছা যাচ্ছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন এলাকাবাসী।

কালিহাতীর থানা পুলিশের ওসি তদন্ত মনছুর আলী আরিফ বলেন, আমরা শুনেছি বীর বাসিন্দা ইউনিয়নের কস্তুরিপাড়া এলাকায় শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি সৌদি আরবে মারা গেছেন। তবে আমরা এ বিষয়ে কোনো কাগজ-পত্র হাতে পাই নাই।

দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের নিহত আমিন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিহত এ পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এলাকাবাসী এ পরিবারকে শান্ত্বনা দিচ্ছেন।

এ নিয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে নিহতের বাবা আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, আমি খুব অসহায় মানুষ। আমার কিছু নাই। সরকারের কাছে একটাই আবেদন করি আমার ছেলের লাশ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেয়। আমি আর কিছু চাই না। তা নাহলে আমরা মইরা যামু গা।

নিহতের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের বিয়ে হয়েছিল। গত ১ নভেম্বর তিনি সৌদি আরবে যায় উপার্জন করার জন্য। কিন্তু সেখানে তার নির্মমভাবে মৃত্যু হয়েছে। এখন আমি কী করবো। কোথায় যাব।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিক খান বলেন, আমিন মিয়ার পরিবারটি খুবই দরিদ্র। তাদের বাড়ি ভিটা ছাড়া আর কিছু নাই। তারা ধার-দেনায় জর্জরিত। তাদের এখনও প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মতো দেনা রয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার সকালে সৌদির জিজান প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই কোম্পানির পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ ৭ জন নিহত হন।

আরিফ উর রহমান টগর/এমএএস/জেআইএম

আরও পড়ুন