ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সাংবাদিকদের মিথ্যাচার না করার পরামর্শ মোকতাদির চোধুরীর

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ০৮:১৬ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

অনেক সাংবাদিক ‘জার্নালিস্ট’ বানান লিখতে পারেন না- এমন বিতর্কিত মন্তব্যের পর এবার সাংবাদিকদের মিথ্যাচার না করার পরামর্শ দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউস মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ পরামর্শ দেন তিনি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের চার বছর পূর্তি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ব্যক্তিগতভাবে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন মোকতাদির চৌধুরী।

মোকতাদির চৌধুরী বলেন, নাসিরনগরে হিন্দুপল্লীতে হামলার ঘটনায় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার’র দুই সাংবাদিক টাকা খেয়ে আমার বিরুদ্ধে লিখেছেন। দয়া করে আপনারা মিথ্যাচার করবেন না, কারো চরিত্র হনন করবেন না।

আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি এ হামলার ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। পুলিশ ২২৮ জনের বিরুদ্ধে যে চার্জশিট দিয়েছে তারা সবাই ছায়েদুল হকের (প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী) লোক।

বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য প্রসঙ্গে মোকতাদির চৌধুরী বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি আমি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার কেউ কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেইনি। যে বলে আমরা টাকা নিয়েছি সে হারামির বাচ্চা, সে যতবড় সৎই হোক না কেন। এ ঘটনায় আমি ভেবেছিলাম মামলা করবো কিন্তু নাসিরনগরের হামলার কারণে আর করতে পারিনি।

প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নাসিরনগর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে মোকতাদির চৌধুরী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন।

সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সংবাদের কথা উল্লেখ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, সেদিন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়নি। যারা বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করতে চায় তারাই হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু সাংবাদিকরা সেটি না লিখে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষের কথা লিখেছেন।

তিনি আরও বলেন, কারো ইমেজ নষ্ট করার টার্গেট যেন আপনাদের না থাকে। এ বছরের শেষ দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আমরা সেই নির্বাচনে আপনাদের সহযোগিতা চাই।

সাংবাদিকরা তাদের অফিস থেকে কোনো বেতন পান না, আল মামুন সরকারের এমন বক্তব্যে সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে আল মামুন সরকার তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নায়ার কবির, সহ-সভাপতি তাজ মোহাম্মদ ইয়াছিন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাতসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

আজিজুল সঞ্চয়/এমএএস/আরআইপি

আরও পড়ুন