পুরোহিত হত্যা : ১০ জেএমবির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ
পঞ্চগড়ের আলোচিত দেবীগঞ্জের গৌড়ীয় মঠের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে ১০ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে করা ৩টি মামলার মধ্যে হত্যা মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বুধবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আবু মনসুর মো. জিয়াউল হকের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলায় মোট ৪৩ সাক্ষীর মধ্যে বিকেল পর্যন্ত ১১ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
বুধবার সকালে অভিযুক্ত ১০ জেএমবি সদস্যের মধ্যে শীর্ষ জেএমবি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব গান্ধী, আলমগীর হোসেন, রমজান আলী, খলিলুর রহমান ওরফে খলিল মুন্সি ও হারেস আলীকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আবারও তাদের জেলহাজতে পাঠায়।
অন্যদিকে, পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে পৃথকভাবে দায়ের করা মামলা দুটির অভিযোগ গঠন শেষে গত বছরের ০৮ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলাটির ওদিনই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শ্রীশ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বরকে গলাকেটে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা।
এ ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড়ভাই রবীন্দ্রনাথ রায়। পরে একই আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আরও দুইটি মামলা দায়ের করে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ। ১০ আসামির মধ্যে ৪ জন বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।
পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আমিনুর রহমান জানান, দেবীগঞ্জের সন্ত গৌড়ীয় মঠের দাসাধিকারী যজ্ঞেশ্বর হত্যাকাণ্ডে হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করা হয়। হত্যা মামলায় ৪৩ জন সাক্ষীর মধ্যে বুধবার প্রথম দফায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়। একই আদালতে পর্যায়ক্রমে অন্য দুই মামলারও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে বলেও জানান তিনি।
সফিকুল আলম/এএম/এমএস