ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মজুরি বেশি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ১০:১২ এএম, ২৫ জানুয়ারি ২০১৮

বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর কৃষকরা। কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বোরো আবাদ রোপণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। সেই সঙ্গে ধান রোপা শ্রমিক নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মজুরি বেশি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক।

এদিকে, শীতকে উপেক্ষা করে জমি প্রস্তুতে পানি সেচ আর হাল চাষ চলছে কৃষকদের। দিনভর ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃষি উপকরণ ও সারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

হঠাৎ সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। চাষিরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমতো থাকলে সুষ্ঠুভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।

jagonews24

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, বোরো চাষে মাঠে মাঠে সেচ ও হাল চাষে ব্যস্ত চাষিরা। ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে চলছে কৃষকদের ব্যস্ততা। অন্যদিকে তৈরি জমিতে চারা রোপণ করা হচ্ছে।

পাশাপাশি বোরো আবাদের সময় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে মজুরি। বিঘা প্রতি ৯০০ টাকা থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত চুক্তিতে জমিতে ধান রোপণ করাচ্ছেন চাষিরা। আবার অনেকে ৩০০ টাকা দিনমজুরি দিয়েও শ্রমিক নিচ্ছেন।

গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহের ফলে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াাশায় বোরো বীজতলার কিছুটা সমস্যা হয়েছে। রবিশস্য জমিতে আবাদের জন্য বীজতলার বীজ হলুদ হয়ে শুকিয়ে মারা গেছে।

এতে কৃষকদের কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। শীত আর কুয়াশায় বোরো আবাদে সমস্যা হতে পারে এ জন্য অনেক কৃষক জমি প্রস্তুত করে রোপণের অপেক্ষা করছেন।

নওগাঁ সদর উপজেলার চকপ্রান গ্রামের কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, প্রচণ্ড শীতের কারণে শ্রমিকরা কাজ করতে পারছেন না। মজুরি বেশি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। প্রতি বছর যে সময় জমিতে চারা রোপণ করা হতো। শীতের কারণে এখন কয়েক দিন পিছিয়ে গেছে।

jagonews24

জেলার মহাদেবপুর উপজেলার খোদ্দনারায়নপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, এ বছর প্রায় ৮ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করছেন তিনি। জমিতে চারা রোপণ পর্যন্ত বিঘা প্রতি প্রায় আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে শ্রমিকরা কাজ করতে চাচ্ছেন না। বাড়তি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং আবহাওয়া ভালো থাকলে ফসল ভালো হবে। আর ভালোভাবে ঘরে উঠাতে পারবেন ফসল।

একই গ্রামের কৃষক নাহিদ হোসেন বলেন, এখন বোরো আবাদের মৌসুম। সবাই জমি প্রস্তুতে ব্যস্ত। কিছুদিন আগেও সব সারের দাম স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু কৃষকরা যখন বোরো চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন ঠিক তখন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃষি উপকরণসহ সব ধরনের সারের দাম বস্তা প্রতি ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এ জন্য আমার মতো অনেক কৃষক জমি চাষাবাদে সমস্যায় পড়েছি। অথচ বাজারে পর্যাপ্ত সার আছে।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, শৈত্যপ্রবাহ চলায় রোবো চাষে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। অতিরিক্ত শীতের মধ্যে জমিতে চারা রোপণ না করতে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে চারা মরার হারটা বেড়ে যায়।

এছাড়া কিছু বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। শীতের হাত থেকে বীজতলা রক্ষা করতে কৃষকদের পলিথিন ব্যবহার করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সার পর্যাপ্ত থাকার পর কিছু দোকানে কৃষকদের কাছ থেকে অনিয়ম করে দাম বেশি নেয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে মনিটরিং করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আব্বাস আলী/এএম/আরআইপি

আরও পড়ুন