রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে বাড়িঘর তৈরি করছে ভারত : শ্রিংলা
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারত সরকার নিজেদের মত কাজ করছে জানিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, কাজ সব সময় দেখিয়ে করতে হয় না। রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে যাওয়ার পর তাদের যেন কোনো সমস্যায় পড়তে না হয় সেজন্য ভারত সরকার রাখাইনে বাড়িঘর তৈরি করছে। এজন্য মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ে এর সমাধান হবে।
বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রিংলা আরও বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নে অংশীদার হয়ে কাজ করতে ভারত সদা প্রস্তুত। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে কাজ করেছে ভারত সরকার তার প্রশংসা করছে।
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচন এদেশের বিষয়। আমরা চাইবো গণতন্ত্র বজায় রেখে নির্বাচন হোক।
তিস্তা চুক্তি সম্পর্কে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- তিস্তা চুক্তি হবে। তা খুব শিগগিরই বাস্তবায়ন হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়টি অনেক কমে গেছে। আমরা একে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কাজ করছি।
ভিসা প্রসেসিং বিষয়ে শ্রিংলা বলেন, আগে প্রতি বছর এদেশ থেকে ৭ লাখ মানুষ ভারত যেতো। ভিসা প্রসেসিং সহজিকরণ হওয়ায় এখন প্রতি বছর ১৪ লাখ মানুষ ভারত যেতে পারছে।
বিমানবন্দর থেকে ভিসা পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সবই সহজ হচ্ছে। এর প্রসেসিংও হয়ে যাবে। এটি সময়ের ব্যাপার।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা এদেশে বর্বরতা ও নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। তখন দানবীর রণদা প্রসাদ সাহাকেও তারা হত্যা করে।
সকাল সাড়ে ১০টায় ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা কুমুদিনী কমেপ্লক্সে এসে পৌঁছালে কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শ্রীমতি সাহা, পরিচালক (শিক্ষা) প্রতিভা মুৎসুদ্দি, পরিচালক সম্পা সাহা, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এম এ হালিম, পরিচালক ডা. দুলাল চন্দ্র পোদ্দার ও মেডিকেল কলেজের ছাত্রীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
তিনি কুমুদিনী লাইব্রেরীতে চা চক্র শেষে ভারতেশ্বরী হোমস পরিদর্শনে যান। সেখানে হোমসের ছাত্রীদের মনোজ্ঞা ডিসপ্লে উপভোগ করেন।
এস এম এরশাদ/আরএআর/আইআই