শরীয়তপুরে আ.লীগের কোন্দলে যুবলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে কোন্দলকে কেন্দ্র করে জাকির হোসেন মৃধা (২৭) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গুলি করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
জাকির হোসেন মৃধা নড়িয়া উপজেলা ভোজেশ্বর ইউনিয়নের উপাসি গ্রামের আব্দুল জলিল মৃধার ছেলে। জাকির ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের পাঁচক গ্রামের হাবু সিকদারের ব্রিজের উপর এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও নড়িয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম ইসমাইল হকের সঙ্গে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ সিকদারের দীর্ঘদিন যাবত রাজনৈতিক কোন্দল চলে আসছে। এর আগেও দু’গ্রুপের লোকজনের মধ্যে একাধিকবার হামলা, মামলার ঘটনাও ঘটেছে।
তারই ধারবাহিকতায় এ কে এম ইসমাইল হকের সমর্থক জাকির হোসেন মৃধা ভোজেশ্বর ইউনিয়নের নরকলিকাতা গ্রামে একটি মেলা থেকে বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন ইউনিয়নের পাঁচক গ্রামের হাবু সিকদারের ব্রিজের ওপর পৌঁছালে আলী আহম্মদ শিকদারের ৮ থেকে ১০জন সমর্থক জাকিরকে পথ রোধ করার চেষ্টা করে। তখন জাকির দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একটি গুলি জাকিরের বাম হাত ভেদ করে। গুলির শব্দ পেয়ে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে ততক্ষণে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় জাকিরকে স্থানীয়রা ওই রাতেই শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। জাকির সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী জাগো নিউজকে বলেন, আহত অবস্থায় জাকিরকে বুধবার রাতে হাসপাতালে আনা হয়। গুলিটি জাকিরের বাম হাত ভেদ করেছে। তবে জাকিরের রক্তনালী ঠিক আছে। আপাতত বিপদমুক্ত আছেন।
আহত জাকির হোসেন মৃধা জাগো নিউজকে বলেন, নরকলিকাতা গ্রামে একটি মেলা থেকে বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলাম। তখন ভোজেশ্বর ইউনিয়নের পাঁচক গ্রামের হাবু সিকদারের ব্রিজের ওপর পৌঁছালে আলী আহম্মদ শিকদারের ছেলে মুরাদ সিকদার (৩৫), এমদাদ সিকদার (৩৮) ও তুহিন সিকদারসহ (৩০) ৮ থেকে ১০জন লোক আমার পথ রোধ করতে চেষ্টা করে। তখন দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় তারা দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একটি গুলি আমার বাম হাতে লাগে।
একেএম ইসমাইল হকের সমর্থক জামাল ফকির ও শহীদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, জাকির ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।
ভোজেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ সিকদার জাগো নিউজকে বলেন, ইসমাইল হকের সমর্থকরা আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ ঘটনাটি সাজিয়েছে।
এদিকে নড়িয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম ইসমাইল হক মোবাইল ফোনে জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয় আমি কিছু বলতে চাই না। থানার ওসিকে জিজ্ঞেস করেন।
নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, হামলার ঘটনায় তদন্ত চলছে।
ছগীর হোসেন/এফএ/আরএআর/পিআর/জেআইএম