ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বলেশ্বর নদীর ভাঙন : শত শত বসতবাড়ি নদীগর্ভে

প্রকাশিত: ০৬:১৭ এএম, ২১ জুলাই ২০১৫

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান হাওলাদার (৬০) বলেশ্বর নদীর তীরে প্রায় ৫ যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন। এ পর্যন্ত ৩ দফা নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন এই মুক্তিযোদ্ধা। মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটু বসতভিটা থাকলেও তা এখন চলে যাচ্ছে বলেশ্বর নদীর পেটে। শেষ জীবনের আশ্রয় বলতে কিছুই যোনো থাকল না তার।

শুধু শাহজাহান  হাওলাদারই নয় তার মতো ওই এলাকার প্রায় শত শত পরিবারের ভিটামাটি এখন গিলতে বসেছে রাক্ষুসে বলেশ্বর নদী।  প্রতি বছরের ন্যায় এবারো বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ওই এলাকার  ভাঙন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে বহু পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ফেলে প্রয়োজনীয় মালপত্র নিয়ে ছুটতে শুরু করেছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, সরকার দেশের নানামুখি উন্নয়ন করলেও উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুঃখ দুরদশার খোঁজ নিচ্ছে না। প্রতি বছর এ মৌসুমে গৃহহীন হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। নির্বাচন এলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তী সময় তাদের এলাকায় পাওয়া যায় না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বলেশ্বর নদী সংলগ্ন ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধটি তেমন মজবুত না হওয়ায় দিন দিন ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। চরম হুমকির মুখে পড়েছে ওই এলাকার শত শত একর  ফসলি জমির বীজতলাসহ আমনের ক্ষেত, স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি, ইউনিয়ন পরিষদ, তাফালবাড়ি বাজার, স্কুল, কলেজ ও মসজিদসহ সদ্য নির্মিত শরণখোলা-মোড়েলগঞ্জের প্রায় ১০ লাখ মানুষের বহু দিনের স্বপ্নের সাইনবোর্ড শরণখোলার আঞ্চলিক মহাসড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

Node

ভাঙন কবলিত রায়েন্দা গ্রামের বাসিন্দা পারভিন আক্তার ও আজাহার মৃধাসহ অনেকে বলেন, তাদের গ্রামের আ. হালিম, আ. সবুর , শহিদুল, আ. হক, লিটন, দুলাল, জাকির ঘরামি, আনোয়ার ও রুবেল হাওলাদারসহ ১৫/২০ টি পরিবার গত ২/১ দিনের ব্যবধানে ঘরবাড়ি ফেলে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে  অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. হাসানুজ্জামান (পারভেজ) জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও বাঁধ সংস্কারকারী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়মের ফলে দিন দিন ভাঙন বৃদ্ধি পেয়ে গৃহহীন হচ্ছে বহু পরিবার। এ বিষয় সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

শওকত আলী বাবু/এসএস/এমএস