হবিগঞ্জে ‘জাতিসংঘে বাংলা চাই’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষা বাংলা চাই দাবিতে হবিগঞ্জে অনলাইন আবেদন উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এর উদ্বোধন করেন উপ-সচিব স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সফিউল আলম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যে কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাজ হচ্ছে অন্য একটি জাতি গোষ্ঠীকে শোষণ করা। তার শিক্ষা এবং সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই তৎকালীন পাকিস্তান সরকার আমাদের মাতৃভাষাকে কেড়ে নিতে চেয়েছিল। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল উর্দু হরফে বাংলা ভাষার প্রচলন করতে। কিন্তু তারা সফল হয়নি। ১৯৯৯ সালে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এরপর থেকে সারা বিশ্বেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে পালন হচ্ছে। বিশ্বের ৩০ কোটিরও অধিক মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। তাই আমরা চাই বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষা করা হোক। এ দাবি জাতিসংঘের কাছে তুলে ধরতে অনলাইন আবেদনের আয়োজন করায় জাগো নিউজকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় হবিগঞ্জ পৌরসভার জননন্দিত টানা ৫ বারের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে এমন নজির নাই যে, ভাষার জন্য কেউ রক্ত দিয়েছে। ভাষার জন্য আন্দোলন করতে হয়নি কাউকে। প্রাণ দিতে হয়নি। একমাত্র বাংলা ভাষাই আছে যা রক্ষার জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে। রক্ত দিয়েছে। আন্দোলন করেছে। তাই আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে পৃথিবীতে গর্ববোধ করি।
বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদা খান সুর্মি নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। ১৯৪৮ সালে যখন এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তখনই নিজের মাতৃভাষাকে রক্ষা করার জন্য আন্দোলন শুরু করেন আমাদের পূর্বপুরুষেরা। প্রাণ দেন সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারসহ অনেকেই। আজ আমরা পৃথিবীর বুকে বাঙালি জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নাহিজ ও সাবেক সভাপতি শোয়েব চৌধুরী প্রমুখ। প্রাণবন্ত এ অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন।
আবেদন করতে ভিজিট করুন : www.jagonews24.com/makebanglaofficial
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এমএএস/আরআইপি