ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের ৪৩ শতাংশ সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। শুধু জমি বিক্রি নয়, দুঃস্থদের ভিজিডি-বয়স্কভাতা ও কর্মসৃজন প্রকল্পসহ সরকারের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যানের এসব কর্মকাণ্ডে ইউপি সদস্যসহ স্থানীয়দের চরম ক্ষোভ বিরাজ করলেও সরকার দলীয় প্রভাবশালী চেয়ারম্যান হওয়ায় ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না কেউ।
চর কৈজুরী গ্রামের হোসাইন মাহমুদের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২০০৯ সালে ৩১ ডিসেম্বর শাহজাদপুর রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ৮৩৪৪নং সাফ কবলা দলিল মূলে কৈজুরী এলাকার নুরুল ইসলাম তালুকদারের কাছ থেকে কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের নামে ৪৩ শতাংশ খরিদ করিয়া পরিষদের নামে নামজারী করা হয়। নামজারী ও জমাভাগ কেস নং-২৩৭৯/২০০৯-১০। এরপর থেকে ওই ৪৩ শতাংশ জমি ইউনিয়ন পরিষদের দখলে ছিল। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সরকারি কোনো অনুমোদন ছাড়াই একই ব্যক্তি নুরুল ইসলামের কাছে গোপনে প্রায় এক কোটি টাকায় ৪৩ শতাংশ বিক্রি করে দেন। দলিল নং-৪০৭৬/১৪। বিক্রিকৃত টাকা ইউনিয়ন পরিষদের ফান্ডে জমা না দিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি এতদিন গোপনে থাকলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের ৪ ডেসিমাল ও একটি রুমের বিনিময়ে ৪৩ শতাংশ জায়গা নুরুল ইসলামের কাছ থেকে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় ওই জমি খাস। যেকারণে রেজুলেশন করে ওই জমি নুরুল ইসলাম তালুকদারকে পুনরায় ফেরত দেয়া হয়েছে। বিক্রি করা হয়নি।
এছাড়া নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউপি সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শুধু জমিই নয় সরকারের ভিজিডি-বয়স্কভাতা কার্ড বিতরণের সময় অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। কর্মসৃজন প্রকল্পে ভুয়া নাম দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নিজের বসতবাড়ির মতো করে ব্যবহার করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তার অনুমতি ব্যতীত কেউ ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকতে পারে না। সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার সাক্ষাতের জন্য পরিষদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কিছুদিন আগে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে অস্ত্রের লাইসেন্স নিতে গিয়ে প্রশাসনের তদন্তে ধরা খেয়ে জেল খেটেছেন। সরকার দলীয় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না।
সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) আবু নুর মো. শামসুজ্জামান জানান, জমি বিক্রির বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/এমএস