রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী
ফাইল ছবি
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে এখনও রোহিঙ্গারা নাফ নদ ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই থামছে না। সোমবার গভীর রাতে নৌকায় চেপে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার চর পয়েন্ট ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সাবরাং হারিয়াখালী পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করেছে ৩৪ পরিবারের ৯৫ জন রোহিঙ্গা।
এরা রাখাইনের কিজিংগি পাড়া, পুইমালী ও বুসিডং এলাকা থেকে এসেছেন বলে দাবি করেছে। এছাড়াও ওপার সীমান্তের ঢংখালী চরে আরও প্রায় হাজার খানেক রোহিঙ্গা এপারে পালিয়ে আসতে অপেক্ষা করছে বলেও জানায় তারা।
রাখাইনে দুর্বিষহ জীবনে ঝুঁকি নিয়ে লুকিয়ে বাস করা রোহিঙ্গাদের উপর আবারও নতুন করে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। বদ্ধ ঘরে বন্দি জীবন যাপনের মাঝেও রাখাইন তাদের জন্য অনিরাপদই রয়ে গেছে এখন। গেল বছর আগস্ট মাসে সেই দেশে সহিংসতার পরও অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে যারা মাতৃভূমে থেকে যেতে চেয়েছিল এখন তারাও বাধ্য হয়ে চলে আসছেন এপারে।
তাদের কথায় স্পষ্টতই অনুমান করা যায়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দূরে থাক অচিরেই রাখাইন রোহিঙ্গা শূণ্য করতে উঠেপড়ে লেগেছে মিয়ানমারের সেনারা।
শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার চর পয়েন্ট দিয়ে আসা রাখাইনের বুচিডং এলাকার রোহিঙ্গা হোসেন জুহার (৪১) বলেন, আমরা নিজের দেশ ছেড়ে কোথাও পালাতে চাইনি। তাই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ আগে থেকে বাংলাদেশ চলে এলেও কঠিন পরিস্থিতিতে রাখাইনে থেকে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন মিয়ানমার সেনারা সেখানে রয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের খুঁজে খুঁজে ঘর-বাড়ি থেকে বের করে বাংলাদেশ পালিয়ে যেতে বলছে। প্রথমে আমরা অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের কঠিন পরিণতির কথা বলে হুমকি দেয়। তাই নিরুপায় হয়ে চলে এসেছি।
এদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে হারিয়াখালী অস্থায়ী ত্রাণ বিতরণ ক্যাম্পে দায়িত্বরত জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ৩৪ পরিবারের ৯৫ জন রোহিঙ্গাকে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন করে শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল হাসান জানান, এপারে আসা রোহিঙ্গাদের মুখে ওপারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও।
সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/এমএস