রাজবাড়ীতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে পেঁয়াজ চাষ
সারাদেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ১৩ শতাংশই উৎপাদিত হচ্ছে রাজবাড়ীতে। জেলায় গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় ১ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে পেঁয়াজ। ভালো ফলন পেতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেতের আগাছা পরিষ্কার, সেচ দেওয়াসহ পোকা-মাকড় নিধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের কিটনাশক প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। তবে পেঁয়াজ চাষ বেশি লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ অঞ্চলে কমছে রসুনের আবাদ।
জেলার ৫ উপজেলার মধ্যে বালিয়াকান্দিতে ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর, কালুখালীতে ৭ হাজার ২০ হেক্টর, পাংশায় ৬ হাজার ৯৮০ হেক্টর, রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ১ হাজার ৭১৫ হেক্টর এবং গোয়ালন্দ উপজেলায় ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। এছাড়া রসুন চাষ হয়েছে বালিয়াকান্দিতে ২ হাজার ১১৫ হেক্টর, গোয়ালন্দে ১ হাজার ২০০ হেক্টর, কালুখালীতে ৭৬০, পাংশায় ৬৯০ হেক্টর এবং রাজবাড়ী সদরে ১৯২ হেক্টর জমিতে।

কৃষকরা জানান, পৌষের শুরুতে পেঁয়াজ লাগানো শুরু হয় আর তোলা হয় চৈত্র মাসে। তাদের প্রতি পাখি (২২ শতাংশ) জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ৮ হাজার আর রসুনে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। প্রতি পাখিতে পেঁয়াজের ফলন হয় প্রায় ২৩-২৫ মণ আর রসুনের প্রায় ১২-১৪ মণ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ও দাম ভালো পাওয়ার আশা করছেন চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে আর চাষ হয়েছে ২৮ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান জানান, বাজারে পেঁয়াজের দাম ভালো হওয়ায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। তবে কমেছে রসুনের চাষ। ফলন ভালো পেতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা চাষিদের সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী জানান, রাজবাড়ী একটি কৃষি প্রধান জেলা। এ জেলার মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি। দেশের পেঁয়াজের মোট উৎপাদনের প্রায় ১৩ শতাংশ রাজবাড়ীতে উৎপাদিত হয়। আর এ বছর জেলায় সর্বচ্চ সংখ্যক পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া যেহেতু অনুকূলে আছে তাই এ বছর রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ ও রসুনের ফলন সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
রুবেলুর রহমান/এফএ/এমএস