নাটোরে পিডিবির ৮ পোল ভেঙে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন
নাটোরে অপরিকল্পিতভাবে সড়ক জনপথের ড্রেন নির্মাণের কাজ করার সময় পিডিবির ৮টি পোল ভেঙে পড়ে শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
রোববার বেলা দেড়টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুরো শহরে বিদুৎ চিল না। পোল ভেঙে পড়ার ব্যাপারে পরস্পরকে দোষারোপ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং পিডিবি কর্তৃপক্ষ। দুপুরে শহরের বড় হরিশপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অর্ধেক শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নাটোরে বড়হরিশপুর বাইপাস থেকে বনবেলঘরিয়া বাসপাস পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দুই লেনের সড়কে ডিভাইডার, ফুটপাথ কাম ড্রেনসহ প্রশস্ত করণের কাজ চলছে।
এই কাজের অংশ হিসেবে শহরের হরিশপুর এলাকায় ঠিকাদারের লোকজন ড্রেন নির্মাণের জন্য ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি খনন শুরু করে। একপর্যায়ে খননকৃত এলাকার মধ্যে ইলেকট্রিক পোলের চারপাশের মাটি আলগা হয়ে পড়ায় ৮টি ইলেকট্রিক পোল পড়ে যায়।
এ সময় একটি ট্রান্সফরমার ব্লাস্ট হয়। ফলে ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন বিকল্প সংযোগের মাধ্যমে সন্ধ্যায় শহরের অর্ধেক অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হয়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শহরের বাকি অর্ধেক অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই ও কোম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম মাসুদ অভিযোগ করেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের এই পোলগুলো সরিয়ে রাস্তার পাশে স্থাপন করা হয়েছিল।
কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদার ভ্যাকু মেশিন দিয়ে অপরকিল্পিতভাবে মাটি খননের কারণে পোলের চারপাশের মাটি আলগা হয়ে যায়। যার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, ১১ কেভি সঞ্চালন লাইনের বিকল্প সংযোগের মাধ্যমে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পেরেছি। ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইন চালু না করা পর্যন্ত পুরো শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব নয়।
এদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, মাটি কাটার সময় ড্রেনে যে পানি ব্যবহার করা হয় এতে পোলের চারপাশ পর নরম হয়ে পড়ে এবং ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নেয়ার ফলে এমন দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, এরপর থেকে পোলের পাশে ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি না কেটে সাধারণ লোকজন দিয়ে মাটি কাটানো হবে। যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে না পারে।
রেজাউল করিম রেজা/এএম/জেআইএম