কেবলই হাতবদল হচ্ছে রেলওয়ের জমি
বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট-আখাউড়া সেকশনে বার বার যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিচ্ছে আন্তঃনগর রেলগুলোতে। এতে আতঙ্কিত হচ্ছেন যাত্রীরা। প্রশ্ন উঠেছে এই সেকশনে চলাচলকারী রেলের মান নিয়ে। রেলের এসব দুর্ঘটনা, যাত্রীসেবার মান, যাত্রীদের ভোগান্তি ও বিভিন্ন সংকট নিয়ে পাঁচ পর্বের প্রতিবেদন করেছেন জাগো নিউজের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি। আজ থাকছে তার দ্বিতীয় পর্ব।
সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনের আওতাভুক্ত অন্তত ২৬টি রেলস্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় কয়েক হাজার কোটি টাকার জমি, পরিত্যক্ত রেলকোয়ার্টার, গুদাম ঘর, অফিসসহ আশপাশের জমি স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। কিন্তু এসব জমি উদ্ধারে তেমন কোনো তৎপরতা চালাচ্ছে না স্থানীয় প্রসাশন। ওয়ান ইলেভেনের পর যৌথবাহিনীর তদারকিতে বেশ কিছু জমি উদ্ধার করা হলেও সময়ের ব্যবধানে এসব জমি আবারও বেদখল হয়ে গেছে।
রেল জোনের বিভিন্ন স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত দালানগুলো কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্য পেশার লোকজনের কাছে চড়ামূল্যে ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে প্রভাবশালী মহল কর্তৃক রেলওয়ের পরিত্যক্ত জমি নিজেদের দখলে নিয়ে কোথাও কাঁচা আবার কোথাও আধাপাকা টিনশেডের ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছে।

বারবার হাত বদল হয় দখলের জায়গা। একজন বিক্রি করেন আরেকজনের কাছে। এভাবেই বদলাতে থাকে রেলের জায়গার দখলদারের মালিকানা। রেলের জমি দখলে নিয়ে মার্কেট বানিয়েছেন। অনেকে আবার কৃষি জমির লিজ নিয়ে বানিয়েছেন দালান ঘর।
ওয়ান ইলেভেনের পর যৌথবাহিনীর তদারকিতে এবং বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও কিছু দিনের মাথায় আবারও উচ্ছেদকৃতরা তাদের পুরনো জায়গায় ঘরবাড়ি তৈরি করে নিয়েছে। অনেকে আবার সেই সুযোগে নতুন করে দখল করে নিয়েছে অনেক জায়গা।
এদিকে রেলের অধিকাংশ জমির কোনো ধরনের সীমানা প্রাচীর না থাকায় ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জমিগুলো অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে। স্থানীয় অসাধু ব্যক্তি এসব জায়গা দখল করে দোকান পাট বাসাবাড়ি নির্মাণ করছে। মোটা অংকের টাকা নিয়ে দখলদাররা এসব দোকান অপর ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, স্বাধীনতার পর যখন যে সরকার গেছে সেই সরকারের নাম ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী মহল একের পর এক দখল করে নিয়েছে রেলওয়ের পতিত ভূমি। কোথাও কোথাও আধাপাকা আবার কোথাও ইটের গাঁথুনি দিয়ে রেলওয়ের জায়গার ওপর মার্কেট, দোকান তৈরি করা হয়েছে।
রেলওয়ে বস্তিতে কয়েক যুগ থেকে বসবাসরত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পৌরশহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বাস করার মতো সার্মথ্য নেই বিভিন্ন স্থান থেকে আসা এমন লোকজন আশ্রয় নিচ্ছে স্বল্প ভাড়ার এই রেলওয়ে বস্তিতে। টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন, আবার হাত বদল হচ্ছে এসব বস্তির নিয়ন্ত্রণ। অনেকে নতুন করে তৈরি করে নিচ্ছেন মার্কেট। ফলে ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে রাস্তাঘাট ও বাজার। বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহে দেখা দিচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। বিশাল এই সম্পদের ব্যাবহার সঠিক ভাবে করতে না পারায় সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
এসব বিষয়ে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জাগো নিউজকে বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে কার দখলে, দখলের জায়গার পরিমাণ ও কোন এলাকার সেটা আমাকে জানালে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এফএ/এমএস