ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা এখন গবাদি পশুর দখলে

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) | প্রকাশিত: ০২:৫২ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৮

গাজীপুরের কালীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তায় চলাচলে বাধার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার দোয়ানী গ্রামে লাখ টাকা ব্যয়ে নাগরী ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক রাস্তাটি এখন ওই গ্রামের মৃত পেদ্রু ক্রুশের ছেলে সেন্টু আন্তনি ডি ক্রুশের গবাদি পশুর দখলে। শুধুমাত্র একটি পরিবারের জন্য একদিকে যেমন ভুক্তভোগীরা রাস্তা ব্যবহারের সুবিধা না পেয়ে ওই এলাকায় জমি ক্রয় করে বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে একই কারণে বেশ কয়েকটি পরিবার গ্রাম ছেড়ে এখন ঢাকায় বসবাস করেছে।

জানা যায়, উপজেলার নাগরী ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ডের দোয়ানী গ্রামের সেন্টু ক্রুশের বাড়ি থেকে স্টেনলি রোজারিওর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দাবি উঠে। দীর্ঘদিন রাস্তার জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বেশ কয়েকটি পরিবারের যেমন চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল তেমনি ওই এলাকায় নতুন করে প্লট ক্রয় করা কয়েকজন মালিক রাস্তার জন্য বাড়ি করতে পারছিলেন না। দীর্ঘ দিনের দাবি আদায়ে ২০১৩ সালে দোয়ানী গ্রামের ভূক্তভোগী রবি রোজারিও,পারুল মারিয়া গমেজ, জেমস কোড়াইয়া, স্টেনলি রোজারিও মিলে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজ মোড়লের কাছে রাস্তার জন্য আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে লাখ টাকা ব্যয়ে ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণ হয়। কিন্তু ওই রাস্তার বাধা হয়ে দাঁড়ায় দোয়ানী গ্রামের সেন্টু আন্তনী ডি ক্রুশ। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির ধারস্থ হন। প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দেখার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতেও সেন্টু মেনে না নিলে বিষয়টি খ্রিস্টান ধর্মের ন্যায় ও শান্তি কমিটি হিসেবে পরিচিত নাগরী প্যারিস কাউন্সিলে গড়ায়। নাগরী প্যারিস কাউন্সিলের তৎকালীন সভাপতি ও ফাদার সিপ্রিয়ান রোজারিও সেন্টু আন্তনি ক্রুশকে একাধিকবার ডেকেও তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা পাননি।

Picture1

দোয়ানী গ্রামের স্টেনলি রোজারিওর স্ত্রী শেফালী গমেজের অভিযোগ, তার স্বামী প্রবাসে চাকুরী করেন। দুই ছেলে নিয়ে তারা ঢাকায় থাকতেন। তারা সেন্টুর অনুরোধে তার বাড়ির পশ্চিম দিকে জমি ক্রয় করেন বাড়ি তৈরির জন্য। আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে চলাচলের রাস্তা দিবে মৌখিক কথার ভিত্তিতে সেন্টুর কাছ থেকে জমি নিয়ে বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই চলাচলের রাস্তায় প্রায়ই বাধা সে বাধা দিতে থাকে এবং রাস্তায় কাটা-বেড়া দিয়ে রাখত। বাধ্য হয়ে পাশের বাড়ির উপর দিয়ে ও অন্যের ফসলী জমির উপর দিয়েও চলাচল করত। কিন্তু সেন্টুর কাছে রাস্তার কথা বললে সে রাস্তার জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করত। এভাবে তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তারা পুনরায় ঢাকা ফিরে যান।

নাগরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির মিয়া জানান, রাস্তাটি তৎকালীন চেয়ারম্যান পরিষদ কর্তৃক রেজুলেশন মোতাবেক রাস্তা তৈরি করা হয়। কিন্তু সেই রাস্তার ইট খুলে সেন্টু রাস্তার উপর গরুর জন্য গোয়াল ঘর তৈরি করে। পরে সেই ইট খুলে পুনরায় তিনি রাস্তা তৈরি করেন। শুনেছি ওই রাস্তায় আবারও সেন্টু ও তার পরিবার গবাদি পশু দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে। তবে জনসাধারণের স্বার্থে তাদের নিয়ে খুব দ্রুত রাস্তাটি দখল মুক্ত করবেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেন্টু আন্তনি ক্রুশ জানান, যাদের কাছে তিনি জমি বিক্রি করেছেন তাদের কাউকেই রাস্তা দেওয়ার কথা ছিল না। তার মালিকানাধীন সম্পত্তির উপর দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের তৈরি রাস্তায় মানুষ চলাচল করবে তা হবে না। তাই তিনি তার জমিতে গবাদী পশু পালন করছেন বলে জানান।

আব্দুর রহমান আরমান/আরএ/এমএস

আরও পড়ুন