স্কুলে পাশে কেউ বসতে চায় না, এ কারণে যাই না
শামীম হোসেনের বয়স ১০ বছর। চতুর্থ শ্রেণিতে স্থানীয় একটি স্কুলে পড়ালেখা করতো সে। অসুস্থতার কারণে এখন আর স্কুলে যায় না সে। জন্মের সময় কপালের ডান কোনে একটি কালো তিলক ছিল শামীমের। এখন দিনে দিনে সেটি বড় হয়ে বিশাল আকার ধারণ করেছে। বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে তার ডান চোখটি। একই সঙ্গে তিলকের ভেতরে ক্ষত তৈরি হয়ে পুঁজ জমেছে। আর এই যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে শামীমের জীবন।
চিকিৎসকের ভাষায় এ রোগের নাম ‘মেলানোমা’। চিকিৎসকরা অপারেশনের পরামর্শ দিলেও দিনমজুর বাবা আজ টাকা জোগার করতে না পারায় নেয়া হয়নি হাসপাতালে।
শামীমের বাড়ি পাবনার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের সোহাগবাড়ি গ্রামে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে বড়। বাবা আফসুর হোসেন পেশায় দিনমজুর। মা সাবেদান নেছা গৃহিণী। ছোট্ট একটি ভাঙাচোরা ঘরে তাদের বসবাস। জমি-জমা সম্পদ কিছুই নেই। দিন এনে দিন খেয়ে চলে পরিবারটি।

সম্প্রতি শামীমদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বারান্দায় বসে আছে শামীম। চুলকানি আর যন্ত্রণায় চোখ ভিজে পানি পড়ছে। কালো আকৃতির তিলকটি এখন বেশ বড়। মুখমণ্ডলের একপাশ দিয়ে কান পর্যন্ত ঝুলে পড়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে একটি চোখ। নিচের অংশে ক্ষত তৈরি হয়ে পুঁজ পড়ছে।
শামীম জানায়, তিলকটি সারাক্ষণ চুলকায়। মাঝে মধ্যেই পুঁজ বের হয়। গন্ধ করে। রাতে ঘুমাতে পারি না। স্কুলে পাশে কেউ বসতে চায় না, এ কারণে যাই না।।
শামীমের মা সাবেদান নেছা জানান, জন্মের পর শামীমের কপালের ডান দিকে একটি ছোট্ট তিলক ছিল। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিলকটি বড় হতে থাকে। এক প্রতিবেশির সহযোগিতায় ছেলেকে নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে দেখিয়েছেন। চিকিৎসকরা অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছেন। ৩ লাখ টাকা নাকি খরচ হবে। এতো টাকা পাবো কোথায়? তাই আর চিকিৎসা করাই না।

এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হয় পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মো. রফিকুল হাসানের সঙ্গে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, রোগটিকে বলা হয় ‘মেলানোমা’। কয়েকটি ধাপে এর অপারেশন করতে হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে এটি হতে পারে।
শামীমের বাবা আফসুর হোসেন বলেন, টাকার অভাবে ছেলের অপারেশন করতে পারছি না। বাবা হয়ে অসহায় লাগছে। ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে নাকি চিকিৎসা হবে। ওখানে কত টাকা খরচ হবে, কীভাবে যেতে হবে এসবের কিছুই তো জানি না। ওই হাসপাতালের যাওয়ার মতো ভাড়াও নেই তার কাছে বলে জানালেন তিনি।
কিশোর শামীমের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে ০১৭৬১-১৩৪৬০৩
এমএএস/এমএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ ১৮ মাসের কাজ ৪ বছরেও শেষ করতে পারেনি গণপূর্ত বিভাগ, দুর্ভোগে রোগীরা
- ২ ফেনীর জহিরিয়া মসজিদে মাসব্যাপী ইফতার করেন হাজারো রোজাদার
- ৩ বগুড়ায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুবদল-ছাত্রদলের ৯ নেতাকে বহিষ্কার
- ৪ ভিজিএফ কার্ড বিএনপি-জামায়াতকে ভাগ করে দিলো প্রশাসন
- ৫ নিলামে পাগলা মসজিদের গরু কিনে এক বছরেও টাকা দেননি বিএনপি নেতা