শেরপুরে সালিশি সভায় গৃহবধূর বস্ত্রহরণ
শেরপুর সদর উপজেলার শাপমারী গ্রামে সালিশি সভায় দুই সন্তানের জননী গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। ঘটনাটির তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও সুধীজনরা।
এদিকে, ওই ঘটনায় মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা থেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনাটির বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। সেই সাথে ঘটনাটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শেরপুর সদর থানা পুলিশের ওসি মো. মাজহারুল করিম বলেন, শাপমারী গ্রামের ওই ঘটনায় নির্যাতিতা গৃহবধূর লিখিত এজাহারে ভিত্তিতে ২৭ জুলাই সোমবার ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন, শাপমারী গ্রামের জয়নাল আবেদীন হাসি (৫২), জামালপুর সদরের বন্দেরবাড়ী এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে ভুট্টো মিয়া (৩০) এবং নবাব আলীর ছেলে মিন্টু মিয়া (২০) ও মিঠুন মিয়া (২৫)। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ওসি জানান, সোমবার পত্রিকায় সংবাদ দেখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিস কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ঘটনাটির বিস্তারিত জানতে চেয়ে তাকে ফোন করা হয়েছিলো।
সরেজমিনে ২৭ জুলাই সোমবার ভাতশালা ইউনিয়নের শাপমারী গ্রামে গেলে ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ছামিদুল হক জানান, গত শুক্রবার পারিবারিক সালিশ বৈঠকে বাবার বাড়ি বেড়াতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করার ঘটনাটি পরদিন জানতে পেরে আমি ঘটনাস্থলে যাই। এসময় আমাকে ছেড়া জামা-কাপড় দেখিয়ে আজমির জানায়, জয়নাল আবেদীন হাসি এবং আজমিরের বউয়ের ভাইয়েরা সালিশে তার ছোট বোনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে বিবস্ত্র করেছে। আরও জানতে পাই, যারা এমন অপকর্ম করেছে জামালপুর থেকে আসা আজমিরের বউয়ের ভাইদেরও স্থানীয় কিছু উত্তেজিত লোক মারধোর করলে তারা পালিয়ে গেছে। এটি নারী নির্যাতনের ঘটনা হওয়ায় আমরা তাদের আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা খুবই নিন্দনীয়। যারাই এ ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হওয়া উচিত।
হাকিম বাবুল/এমএএস/এমআরআই