দাদন ব্যবসায়ীদের অনৈতিক প্রস্তাবে গৃহবধূর আত্মহত্যা!
নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় দাদন ব্যবসায়ীদের অনৈতিক প্রস্তাবের ক্ষোভে লীমা রানী (৩০) নামে এক গৃহবধূ কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছেন।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পারইল ইউনিয়নের খোলাগাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাপাতালে মর্গে পাঠানো হয়। লীমা রানী ওই গ্রামের গোপেনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গৃহবধূর স্বামী গোপেন ফল ব্যবসায়ী। দোকানের মালামাল কেনার জন্য তার স্ত্রী বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার কুন্ডগ্রাম ইউনিয়নের বশিকরা গ্রামের দাদন ব্যবসায়ী আইয়ুবের কাছ থেকে মাসে ৫ হাজার সুদে ৩৫ হাজার টাকা, বাচ্চুর কাছ থেকে মাসে ৬ হাজার সুদে ৪৫ হাজার টাকা এবং ওসমান আলীর ছেলে বাবুর কাছ থেকে মাসে দেড় হাজার টাকা সুদে ৫ হাজার টাকা নেয়।
তিন মাস আগে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উচ্চসুদে টাকা নেয়া হলেও মাসে মাসে পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় দাদন ব্যবসায়ীরা গৃহবধূকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়।
গৃহবধূ তাদের প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ক্ষোভের বসে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কীটনাশক পান করে। বাড়ির লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে আদমদিঘী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দাদন ব্যবসায়ীদের অনৈতিক প্রস্তাবের ক্ষোভে লীমা রানী আত্মহত্যা করেছেন।
নিহতের খালা মায়া রানী বলেন, দাদান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উচ্চসুদে টাকা নেয়ার পর আমার ভাগ্নিকে তারা চাপ সৃষ্টি করে। কয়েকদিন আগে একটি গরু বিক্রি করে কিছু টাকা পরিশোধ করেছে। ধীরে ধীরে টাকাগুলো পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু দাদন ব্যবসায়ীরা ভাগ্নির বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত। পরে তারা কুপ্রস্তাব দেয় ভাগ্নিকে। এই ক্ষোভে সে আত্মহত্যা করেছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।
এ বিষয়ে দাদন ব্যবসায়ী বাচ্চু বলেন, সুদের ওপর টাকা খাটাতাম। গৃহবধূ লীমা রানীকেও টাকা দিয়েছি। তবে কত টাকা দিয়েছি মনে নেই। শুনলাম গৃহবধূ মারা গেছে। এজন্য মনটা খারাপ। তবে তাকে কোনো কুপ্রস্তাব বা টাকার জন্য চাপ দেয়া হয়নি।
রানীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাপাতালে মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে দাদন ব্যবসায়ীর কারণে আত্মহত্যার সম্পৃক্ততা থাকলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আব্বাস আলী/এএম/জেআইএম