ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখলো স্বামী

বেনাপোল (যশোর) | প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৮

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় স্বামী রিপন হোসেনের (৩৮) বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী জোহরা খাতুনকে (৩৪) পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে রিপনসহ তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।

নিহত জোহরা খাতুন বেনাপোল পোর্ট থানার বালুন্ডা গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে। রিপন হোসেন শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সাতভাই পাড়া এলাকার মোসলেম গাজীর ছেলে।

নিহতের স্বজনরা জানান, ১৭ বছর আগে রিপনের সঙ্গে জোহরা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী রিপন যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে ব্যাপক নির্যাতন করতে থাকে। প্রায়ই রিপনের চাহিদামত যৌতুক মেটাতে হতো জোহরার বাবার। যৌতুক না পেলে রিপন ক্ষিপ্ত হতো এবং স্ত্রী জোহরার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করত। এনিয়ে পারিবারিকভাবে ও গ্রাম্য শালিসে অনেকবার মীমাংসা করা হয়েছে। এর মধ্যে জোহরা একটি ছেলে সন্তানের মা হলে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে জোহরার বাড়ির লোকজন অনেক টাকা খরচ করে রিপনকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়।

দুই বছর আগে বাড়ি ফিরে আবারও স্ত্রীর ওপর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতে থাকে রিপন। জোহরা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কয়েকবার বাবার বাড়িতে চলে যায়। রিপন আবার তাকে কূটকৌশল করে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। কিন্তু কয়েকদিন ভালো থাকার পর আবার শুরু হয় নির্যাতন। এর মধ্যে এক বছর আগে তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু দিন দিন যৌতুকের দাবিতে রিপনের নির্যাতন বাড়তে থাকে।

বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার সকালে জোহরাকে ব্যাপক মারপিট করে স্বামী রিপন। মারপিটের একপর্যায়ে জোহরা মারা যায়। মৃত্যুর পর জোহরা আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করার জন্য ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। সকালে বাড়িতে কান্নাকাটি দেখে আশপাশের লোকজন এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত জোহরার ছেলে হৃদয় (১৩) জানায়, গতকাল রাতে বাবা তার মাকে খুব মেরেছে।

নিহত জোহরার বাবা নুর ইসলাম বলেন, আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য ব্যাপক নির্যাতন করে হত্যা মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা মেয়ে হত্যার উপযুক্ত বিচার চাই।

এ ব্যাপারে বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সাজ্জাদুর রহমান বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে নিহতের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে যশোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে শার্শা থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ঘাতক রিপন ও তার পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে।

জামাল হোসেন/আরএআর/পিআর

আরও পড়ুন