ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নয়নের একাকিত্ব ঘুচাবে বাঘিনী ‘মণি’

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০২:০৪ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৮

শাব্দিক অর্থে নয়ন-আঁখি সমার্থক। কিন্তু দাম্পত্যের জন্য একে অন্যের জন্য নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠতে পারেনি নয়ন-আঁখি জুটি। তাই একই কোটরে জন্ম হলেও দাম্পত্য সম্পর্ক শুরুর আগেই নয়নকে ছেড়ে চলে গেছে আঁখি। বলছিলাম কক্সবাজারের চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের বাঘ জুটি নয়ন ও আঁখির গল্প।

বাঘিনী আঁখির অকাল প্রয়াণে সঙ্গীহীন হয়ে পড়ে বাঘ নয়ন। কিন্তু এবার নয়নের একাকিত্বের অবসান ঘটাতে আনা হয়েছে আরেক বাঘিনীকে। তবে তার নাম আর সমার্থক নয়, নয়নের অপরিহার্য অংশ হিসেবে নাম দেয়া হচ্ছে 'মণি'। সে লক্ষ্যে বাঘিনী মণিকে এনে পার্কের বাঘ বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে দিনক্ষণ দেখেই নয়ন-মণি জুটির দাম্পত্য জীবন শুরু করাতে চাচ্ছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। সবার প্রতীক্ষা মণিকে নিয়ে নয়ন কতদূর দাম্পত্য জীবনের আলো দেখবে সেটা অবলোকন করা।

পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ১১ জুন শ্যামলীতে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে বাঘের তিন শাবক। সুন্দরবনের কাঁকড়াখালী পয়েন্ট থেকে সংঘবদ্ধ বন্য প্রাণী পাচারকারী দলের সদস্যরা জন্মের মাত্র দুই মাসের মাথায় তিন বাঘ শাবককে বিদেশে পাচার করছিল। এ সময় বাঘগুলোকে পাচারকারীরা ঢাকার শ্যামলীতে নিয়ে আসে।

Tiger-(1)

উদ্ধারের পর তিন বাঘ শাবকের নাম রাখা হয় জয়, জুঁই ও জ্যোতি। এই অবস্থায় প্রথমে তিন শাবকের ঠাঁই হয় মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের বিয়ারিং হাউসে। সেখানে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে প্রায় চার মাস পর্যন্ত তিন শাবকের পরিচর্যা চলে। বয়স ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর জয়, জুঁই ও জ্যোতিকে ওই বছরের ১৩ অক্টোবর পাঠানো হয় কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলহাজরা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। এরপর দৃশ্যপট পাল্টে যায় এই পার্কের। তবে তিন শাবকের মধ্যে জ্যোতিকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার চিড়িয়াখানায়। সেখানে পুরুষ বাঘ ‘রণবীরের’ সঙ্গে জুটি বাঁধে জ্যোতি। বাকি দুই শাবক জয় ও জুঁই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করে। তাদের সংসারে জন্ম নেয় আঁখি ও নয়ন। সেখান থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার একেবারে সন্নিকটে এসে হৃদরোগে মারা যায় বাঘিনী আঁখি। এরপরই একা হয়ে পড়ে নয়ন।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী চিকিৎসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পার্কের বাঘ বেষ্টনীতে দীর্ঘদিন একাকী থাকা পুরুষ বাঘ নয়নের জীবনসঙ্গী হিসেবে আনা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক বাঘিনী মণিকে। প্রতিদিন একবার পাঁচ কেজি করে গরুর মাংস খেতে দেয়া হচ্ছে তাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সপ্তাহের মঙ্গলবার খাবার দেয়া হয় না।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে যে খাঁচায় রাখা হয়েছে বাঘিনীকে (মণি), তার পাশেই আছে পুরুষ বাঘ নয়ন। মাঝখানে একটি লোহার এঙ্গেলের নেট বিদ্যমান থাকলেও দুইজনের মধ্যে দেখাদেখি হচ্ছে।

Tiger-(1)

পার্কের বিট কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী জানান, চলতি বছরের ২১ মার্চ প্রায় চার বছরের বাঘিনীকে এই পার্কে আনা হয় গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে। পার্কের নতুন এ অতিথি বেশ হিংস্র। মানুষ দেখলেই হুঙ্কার ছাড়ছে। তাই আপাতত নির্দিষ্ট খাঁচায় রেখে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট খাঁচায় আরো কিছুদিন রাখার পর পুরুষ বাঘ নয়নের সঙ্গে জুটি হিসেবে বাঘিনী মণিকে একই খাঁচায় রাখা হবে।

চট্টগ্রাম বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক এসএম গোলাম মওলা বলেন, যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণী সঙ্গীহীন থাকতে পারে না। তাই সাফারি পার্কের প্রাণীগুলোর সঙ্গীহীনতা কাটাতে আমাদের চেষ্টার কমতি নেই। এরই অংশ হিসেবে বাঘ নয়নের সঙ্গী হিসেবে প্রাপ্তবয়স্ক বাঘিনীকে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে সম্প্রতি আনা হয়েছে। কিছুদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর নয়নের সঙ্গে রাখা হবে নতুন অতিথি 'মণিকে'।

এদিকে ক্রমে সৌন্দর্য্য হারাতে বসা সাফারি পার্কে নতুন বাঘিনী আনার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাণীপ্রেমী দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা ঢুকেই প্রথমে সোজা চলে যাচ্ছে বাঘের বেষ্টনীতে। নতুন অতিথি মণি নতুন জায়গার নতুন মুখ দেখে হুঙ্কার ছাড়ছে। টেলিভিশন পর্দায় দেখা বাঘের গর্জন বাস্তবে শুনে ও দেখে পুলকিত হচ্ছে দর্শনার্থী আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা। পার্কের নতুন অতিথির জন্য দর্শনার্থী বাড়ায় আনন্দিত পার্ক সংশ্লিষ্টরাও।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/জেআইএম

আরও পড়ুন