গাজীপুরের নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে : নির্বাচন কমিশনার
নির্বাচন কমিশনার মো. মাহবুব তালুকদার বলেছেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ না থাকলে এই নির্বাচন অর্থবহ হবে না। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি নির্দেশ দিচ্ছি নির্ভয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন। আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। তা যদি কেউ অমান্য করেন ১৯৯১ সালের বিধি অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মেয়র প্রার্থী, নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনে মানি পাওয়ার ও মাসল পাওয়ারকে যদি আমরা প্রতিহত করতে না পারি তাহলে নির্বাচন কখনোই সুষ্ঠু হতে পারে না। মাসল পাওয়ার ও মানি পাওয়ার এ দুটোকেই আমাদের প্রতিহত করতে হবে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটের আগের দিন রাতে ব্যালট পেপার ছিনতাই হবে, ব্যালট বই ছিনিয়ে নিয়ে সিল মেরে তা বাক্সে ঢুকানো হবে এমন অবস্থায় আপনারা কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। নির্বাচনের এই কালচার আর চলতে দেয়া হবে না। নির্বিঘ্নে ভোটারদের কেন্দ্রে আসা এবং বেরিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্ববাসী মনে করে এ নির্বানের মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমাদের যে কর্মক্ষমতা সেটা প্রমাণিত হবে। শুধু দেশবাসী নয়, সারা বিশ্ব এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। এ নির্বাচন শুধু যে গাজীপুরবাসী পর্যবেক্ষণ করছেন তা নয়, সমগ্র বিশ্ববাসী এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে।
তিনি প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন না। আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে আমরা আপনার প্রার্থীতা পর্যন্ত বাতিল করতে পারি। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কেউ নির্বাচনে জয়ী হবেন এমন আশা আপানারা করবেন না।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মন্ডল, নির্বাচন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব খন্দকার মিজানুর রহমান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম, ইসলামী ঐক্যজোটের ফজলুর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী মো. রুহুল আমীন, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের মো. জালাল উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাসির উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ এবং বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহবুবুল হক গোলাপ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এছাড়া নির্বাচন সংশ্লিষ্ট র্যাব কর্মকর্তা, বিজিবি কর্মকর্তা, আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা, ফয়ার সার্ভিস, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
আমিনুল ইসলাম/আরএআর/পিআর