ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আমি অনেক বদলে গেছি

জেলা প্রতিনিধি | লালমনিরহাট | প্রকাশিত: ০৭:০৬ পিএম, ০৭ মে ২০১৮

অস্ট্রেলিয়ায় গোল্ড কোস্টের ২১তম কমনওয়েলথ গেমসে মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে চতুর্থ স্থান অর্জনকারী ও জাতীয় এয়ার রাইফেলে চ্যাম্পিয়ন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার কৃতি শিক্ষার্থী শ্যুটার জাকিয়া সুলতানা টুম্পা (২৪)।

২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত এয়ার রাইফেলে আশা জাগিয়ে ছিলেন টুম্পা। কিন্তু ফাইনালে উঠেও তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে চতুর্থ স্থান হয়ে। তিনি লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা গ্রামের ব্যবসায়ী তছলিম উদ্দিন ও জাহানারা বেগমের মেয়ে।

চার বোন এক ভাইয়ের মধ্যে টুম্পা দ্বিতীয়। তিনি হাতীবান্ধা শাহ গরীবুল্ল্যাহ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে ঢাকা রাইফেল ক্লাবে প্রশিক্ষণ ও উত্তরা ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করছেন টুম্পা।

জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে টুম্পা বলেন, ছোটবেলা থেকেই খেলার প্রতি আমার ঝোঁক বেশি। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিকের সব খেলায় অংশ নিয়ে প্রথম হই। বিদ্যালয়ের সিনিয়র আপুরা বলত, ও তো জুনিয়র হিসেবে খেললেই পারে। সে কেন সিনিয়রদের হয়ে খেলছে? আমি গ্রামের মেয়ে, আমি পারব না- এটা আমার মাথায় কখনও ছিল না।

টুম্পার ভাষ্য, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিকেএসপিতে চান্স পেয়েই ঢাকায় আসতে হয় আমাকে। মা আমার জন্য অনেক কেঁদেছেন। তবুও আমি মনোবল হারায়নি। খেলতে গিয়ে বাবা-মায়ের বাধা কখনও পাইনি। এটাই আমার জীবনের বড় সাপোর্ট। অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে আমাকে।

বিকেএসপিতে যেতে পেরেছি বলেই আজ আমি এখানে এসে দাঁড়িয়েছি। ২০১৬ সালে ঢাকা রাইফেল ক্লাবে যোগ দেয়ার পর থেকেই লাইফটা চেঞ্জ হতে শুরু করে। এখন অনেক বদলে গেছি আমি। ন্যাশনাল ক্লাবে খেলছি। ক্লাব থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাই।

টুম্পা বলেন, আমার কাজ দেশের সম্মান রক্ষা করা। দেশের মানুষ যেন আমাকে জাকিয়া সুলতানা টুম্পা নামেই চেনেন। চাওয়া একটাই, ২০২০ সালে অলিম্পিক মেডেল জিততে চাই। এ জন্য প্রচুর প্র্যাকটিস করছি।

মা-বাবার পাশাপাশি হাতীবান্ধা শাহ গরীবুল্ল্যাহ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সামসুন নাহার ম্যাডাম খেলাধুলায় আমাকে সবসময় উৎসাহ দেন। দেশকে কিছু একটা এনে দেয়ার চিন্তা সবসময় আমার মনে থাকে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে এশিয়ান গেমসে অংশ নেব- বলেন টুম্পা।

jagonews24

লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলা শিশু নিকেতন থেকে ২০০৩ সালে জাকিয়া সুলতানা টুম্পা পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর ২০০৪ সালে হাতীবান্ধা শাহ গরীবুল্ল্যাহ বালিকা বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। ষষ্ঠ শ্রেণি পাসের পর ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির সুযোগ পায় টুম্পা।

টুম্পার মা জাহানারা বেগম বলেন, ছোট্ট মেয়েকে শহরের বাইরে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়ে ১২-১৩ বছর কান্না করেছি। তার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এখন আমাদের একটাই আশা, সে যেন অলিম্পিকে মেডেল জিততে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে জাপানে গোল্ড কোস্টের ২১তম কমনওয়েলথ গেমসে মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন টুম্পা।

এর আগে ভারতে সাউথ এশিয়া গেমসে ২০১৬ সালে অংশগ্রহণ করে এয়ার রাইফেলে ব্রোঞ্জ জেতেন। ভারতে দুবার, জাপানে একবার ও অস্ট্রেলিয়ায় একবার খেলতে যান এই নারী শ্যুটার। খেলায় অসংখ্য মেডেল পান। জাতীয় এয়ার রাইফেলে চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করেন টুম্পা।

রবিউল হাসান/এএম/আরআইপি

আরও পড়ুন