১৮ দিনের ব্যবধানে আবারো বান্ডিলে টাকা কম
মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে সোনালী ব্যাংকে ৫শ টাকার বান্ডিলে ১০টি ৫শ টাকার নোট কম পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রুপালি ব্যাংক বাগেরহাট শাখার এক ক্যাশিয়ার ৮ লাখ টাকা জমা দিতে আসলে ৫শ টাকার নোটের বান্ডিলে ১শটি নোটের পরিবর্তে ৯০টি ধরা পড়ে।
এর আগে গত ১২ জুলাই ১ হাজার টাকার বান্ডিলে ১শ টাকার নোট পওয়া গিয়েছিল। টাকার বান্ডিলে নির্ধারিত নোটের পরিবর্তে অন্য নোট ও কম থাকার দুটি ঘটনায় এবারো সেই রুপালি ব্যাংকের জুনিয়ার অফিসার (ক্যাস) আব্দুল কাদের আলোচনায় উঠে এসেছেন। সদ্য ব্যাংক পাড়ায় আলোচিত এ ঘটনাটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. মুজিবর রহমান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দেখা গেছে, রুপালি ব্যাংক বাগেরহাট শাখার জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) আব্দুল কাদের তার নিজ হাতে টাকার বান্ডিলে ভুল করা হয়েছে এমন দরখস্ত লিখছেন। সোনালী ব্যাংকে অবস্থানকালীন তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তাদের শাখা থেকে ভুল গণনা করে বান্ডিল করায় এমনটি ঘটেছে। তিনি নিজেই ওই টাকা গণনা করে সিলমোহর দিয়ে ৮ লাখ টাকা জমা দিতে তার সহকর্মী আ. মান্নানকে সোনালী ব্যাংকে পাঠান।
সোনালী ব্যাংক বাগেরহাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. মুজিবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার তার শাখায় রুপালি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৮ লাখ টাকা জমা দিতে আসে। এ সময় মেশিনে টাকা গুণতে গিয়ে ৫ শ টাকার নোটের বান্ডিলে ১শটি নোটের স্থলে ৯০টি নোট পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি নিয়ে সোনালী ব্যাংকে হৈ- চৈ পড়ে যায়। এ সময় সোনালী ব্যাংকে টাকা জমা দিতে আসা রুপালি ব্যাংকের সদ্য যোগদানকারী জুনিয়র অফিসার মো. মান্নান বান্ডিলে টাকা কম থাকার ঘটনা তার সহকর্মী অপর অফিসার আ. কাদেরকে জানায়।
জানা গেছে, রুপালি ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার আ. কাদেরই ওই টাকা গণনার পর সিল গালা করে জমা দিতে সোনালী ব্যাংকে পাঠান। ৫ শ টাকার নোটের বান্ডিলে টাকা কম থাকার ঘটনা সহকর্মী আ. মান্নানের মাধ্যমে শুনতে পেয়ে তিনি নিজেই ছুটে আসেন সোনালী ব্যাংকে। নিজে চোখে টাকা কম বুঝতে পেরে তিনি আবার তার শাখায় ছুটে গিয়ে অন্য একটি ৫শ টাকার নোটের বান্ডিল নিয়ে আসেন। তবে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরে ব্যাংকে গিয়ে আনা তার ৫ শ টাকার বান্ডিলটি গ্রহণ করেননি।
তবে বিকেলে রুপালি ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার আ. কাদেরের নিজ হাতে লেখা ভুল স্বীকার সংক্রান্ত পত্রের সাথে ৮ লাখ টাকার সমন্বয় ঘটাকে কম পড়া ১০টি ৫ শ টাকার জমা নেয়া হয় এবং সার্বিক বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. মুজিবর রহমান উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান।
শওকত আলী বাবু/এসএস/এমআরআই