ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

লোকালয়েই তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত চক

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ৩০ মে ২০১৮

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার শীবগঞ্জ গ্রামে লোকালয়েই অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে এসডি চক তৈরির ফ্যাক্টরি। কোনো নিয়ম কানুন ছাড়াই এ ফ্যাক্টরিতে কাজ করছেন গ্রামের হতদরিদ্র নারীরা। ফ্যাক্টরিতে ঝুঁকির মধ্যে দিয়েই খালি হাতে ও মাস্ক ছাড়া কাজ করেন শ্রমিকরা। অভিযোগ রয়েছে অনুমোদন ছাড়া এসব চক বাজারেও সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, গত চার বছর আগে শীবগঞ্জ গ্রামে গড়ে উঠেছে এসডি চক ফ্যাক্টরি। তেলাপোকা মারার চক তৈরি দিয়ে ফ্যাক্টরির কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া সিরিয়াস চক, নিউ ম্যাজিক চক, ম্যাজিক চক, ওস্তাদ ইনসেক্ট চক, কারেন্ট স্পেশাল চক, ওস্তাদ ইঁদুর মারার আঠা, ওস্তাদ গাম, দ্বীন ম্যাগ প্লাস, দ্বীন এসওপি সালফেট অব পটাশসহ কমপক্ষে ১০ ধরনের প্রোডাক্ট তৈরি করা হয়। রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই তৈরি হচ্ছে এই প্রডাক্টগুলো। এছাড়া ফ্যাক্টরিতে প্রশিক্ষিত কোনো ল্যাব কেমিস্টও নেই।

Naogaon-Factorie

অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এ ফ্যাক্টরিতে কোনো জানালা না থাকায়, ফ্যাক্টরির ভেতরে সব সময় থাকে তীব্র বিষাক্ত গন্ধ। আর সেখানেই কাজ করেন গ্রামের ৩০ জন হতদরিদ্র নারী শ্রমিক। কাজ করার সময় নারী শ্রমিকদের শিশু সন্তানরাও অনেক সময় ফ্যাক্টরিতে আসা যাওয়া করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ ফ্যাক্টরিতে কাজ করি। এতে পারিশ্রমিক পাই ১৫০ টাকা। বিষাক্ত এ গন্ধে ভবিষ্যতে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। তবে সেটা এখন ভেবে কী হবে। এখনকার চিন্তা এখন করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের মালিক আলহাজ্ব তাহার হোসেন মিয়ার ছেলে হুসাইন মোহাম্মদ শাহিন বলেন, রেজেস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া চলছে। কিছু প্রোডাক্ট উৎপাদন করা হয়েছে। সেগুলো কিছুদিনের মধ্যে বাজারজাত করা হবে। এছাড়া শ্রমিকরা নিরাপত্তার মধ্যেই ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

Naogaon-Factorie

বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সর্বশেষ মঙ্গলবার বিকেলে ফ্যাক্টরিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মহাদেবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হাবিবুল হাসান। তিনি বলেন, এসডি চক ফ্যাক্টরিতে কেমিস্ট বিহীন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিষাক্ত চক পাউডার, তেলাপোকা মারার চক, ইঁদুর মারার বিষটোপসহ অনুমোদনহীন পেস্টিসাইড তৈরি করা হচ্ছিল।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিছু প্রোডাক্টের লাইন্সেস নেই। কোম্পানি গড়ে ওঠার যে নিয়ম সেখানে তা পাওয়া যায়নি। প্রথমত সতর্ক হওয়ার জন্য পরামর্শ এবং কাগজপত্র ঠিক করার জন্য এক মাসের সময় দেয়া হয়েছে। এছাড়া কোম্পানিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আব্বাস আলী/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন