ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ওপারে রাজপ্রাসাদ, এপারে কুঁড়েঘর!

আজিজুল সঞ্চয় | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ০১:২২ পিএম, ০৩ জুলাই ২০১৮

দেশের অন্যতম বৃহৎ ও রফতানিমুখী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এ বন্দরে রফতানির হার ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে ভারতের আগরতলায় পণ্য রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অপরদিকে আগরতলা ইন্টিগ্রেডেট চেকপোস্টের (আইসিপি) চেয়ে আখাউড়া আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট অনেক গুণ পিছিয়ে রয়েছে। আখাউড়া স্থলবন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিয়ে জাগো নিউজের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে শেষ পর্ব

যাত্রীদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট। প্রতিদিন এ চেকপোস্ট দিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক যাত্রী ভারতে যাতায়াত করে থাকেন। পূজা-পার্বণ এলে যাত্রীদের এ সংখ্যা দেড় হাজারে গিয়ে ঠেকে। তবে নামের পাশে আন্তর্জাতিক শব্দটি জুড়ে দেয়া হলেও সেবার দিক থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা ইন্টিগ্রেডেট চেকপোস্ট (আইসিপি) থেকে অনেক গুণ পিছিয়ে আখাউড়া চেকপোস্ট।

বিশাল জায়গা নিয়ে নির্মিত আগরতলা আইসিপি ভবনটি দেখতে অনেকটাই রাজপ্রাসাদের মতো। ঝকঝকে ও পরিপাটি আগরতলা আইসিপি ভবনের তুলনায় আখাউড়া আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের পুরনো ছোট্ট ইমিগ্রেশন আর স্থল শুল্ক স্টেশন ভবন দেখতে অনেকটা কুঁড়েঘরের মতো। এ নিয়ে যাত্রীদেরও অভিযোগের শেষ নেই।

আগরতলা আইসিপিতে এক ছাদের নিচেই দুই দেশের যাত্রীদের মিলছে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের যাবতীয় সেবা। যাত্রীদের মালামাল পরীক্ষার জন্য সেখানে রয়েছে অত্যাধুনিক স্ক্যানিং মেশিন। এছাড়াও যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত আসন, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা। সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আইসিপি ভবন পর্যন্ত যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিনামূল্যে পরিবহনেরও ব্যবস্থা করেছে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। আগরতলা আইসিপিতে এমন আধুনিক সব সেবা মিললেও আখাউড়া আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের চিত্র একেবারেই বিপরীত।

Agartala-ICP

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের বসার জন্য নেই পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থা। স্ক্যানিং মেশিনের বদলে যাত্রীদের ব্যাগ খুলে তল্লাশি চালান শুল্ক স্টেশনের কর্মচারীরা। নেই বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থাও। টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের।

এছাড়া পাসপোর্টে আগমন অথবা প্রস্থানের সিল মোহরের জন্য ইমিগ্রেশন ভবনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেক যাত্রীকে। অনেক সময় ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাইরেও অবস্থান নেন যাত্রীরা।

ভারতের তামিলনাড়ু থেকে বাংলাদেশে ঘুরতে আসা সৈয়দ তাম্বি নামে এক যাত্রী বলেন, আগরতলা আইসিপির তুলনায় আখাউড়ার অবস্থা খুবই নাজুক। বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করেই এমন চিত্র দেখে যে কেউ এ দেশ সম্পর্কে বাজে ধারণা পোষণ করবে। তাই এখানকার ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস্ ভবন আধনিকায়ন করা জরুরি।

Akhaura-Checkpost-3

বিল্লাল নামে চট্টগ্রামের এক যাত্রী জাগো নিউজকে বলেন, ভারতের তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের আরও আপডেট হতে হবে। আগরতলা আইসিপি থেকে আসার পর আখাউড়া ইমিগ্রেশনে ও কাস্টমস্ ভবনে ঢুকলে লজ্জা লাগে। পাশাপাশি দেশ অথচ তারা (ভারত) আমাদের থেকে কত এগিয়ে।

সৌমেন পাল নামে আরকে যাত্রী বলেন, আগরতলা আইসিপিতে আমরা যে সেবা পাই সেটা আখাউড়ায় পাই না। আগরতলায় এক ভবনেই ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কাজ সারতে পারি। কিন্তু আমাদের এখানে এক জায়গায় ইমিগ্রেশন আরকে জায়গায় কাস্টমস। এখানে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত আসন, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হয়। যাত্রীদের এসব ভোগান্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন নজর দেন।

Akhaura-Checkpost-5

এদিকে বৃষ্টির সময় ইমিগ্রেশন ভবন ও স্থল শুল্ক স্টেশন ভবনের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। তখন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ইমিগ্রেশন ভবনের বাইরে গোলঘরে চলে যাবতীয় কার্যক্রম।

আখাউড়া আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) পেয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ১৯৫২ সালে ইমিগ্রেশন ভবনটি নির্মিত হয়েছে। পুরনো এ ছোট্ট ভবনে কাজ করতে গিয়ে আমাদের সমস্যার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। বসার জায়গার অভাবে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এসব সমস্যার কথা আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার বলেছি।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা শ্যামল কুমার বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আগরতলা আইসিপির তুলনায় আমরা যাত্রীদের কাঙিক্ষত সেবা দিতে পারছি না। তবে যদি আমাদেরও আইসিপি ভবন হয়ে যায় তাহলে যাত্রীরা তাদের কাঙ্খিত সেবা পাবেন। আশা করছি অচিরেই আমাদের আইসিপি ভবন নির্মিত হবে।

আরএআর/পিআর

আরও পড়ুন