ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চকরিয়ায় মাতামুহুরীর ভাঙনের মুখে ঘর-বাড়ি-মসজিদ

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০৯:২৯ পিএম, ০৪ জুলাই ২০১৮

ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে পৌরসভা ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল বারীপাড়া ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের হাজিপাড়া। ইতোমধ্যে বেশকিছু এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে অসংখ্য ঘর-বাড়ি ও মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে চকরিয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। পাশাপাশি বেড়েছে ঢলের পানি। এতে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফাঁশিয়াখালী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক গ্রামে অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এসব ইউনিয়নের রাস্তাঘাট।

তবে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের আবদুল বারীপাড়া ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের হাজিপাড়া। বৃষ্টি ও ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে মাতামুহুরী নদীর দুই পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান বলেন, বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫৫ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুর থেকে কক্সবাজারে থেমে থেমে ভারী ও মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় ৫৪ মিলিমিটার। আগামী একসপ্তাহ পর্যন্ত ভারী ও মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান এই আবহাওয়া কর্মকর্তা।

এদিকে, বন্যার পানি ও পাহাড় ধস থেকে আত্মরক্ষায় উপজেলাবাসীকে সর্তক থাকার অনুরোধ করেছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরউদ্দিন মোহাম্মদ শিবলী নোমান।

তিনি বলেন, টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ২-৩ দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙনের সম্ভবনা রয়েছে। তাই, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিচু স্থানে বন্যায় আক্রান্ত, নদীর তীরবর্তী পরিবার ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের নিরাপদে সরে আসার অনুরোধ করা হলো।

অপরদিকে, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম, পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী ও কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান পৌরসভার আবদুলবারী পাড়ার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। একইদিন তারা লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের হাজীপাড়া ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় মাতামুহুরী নদীর হাজিপাড়া অংশটি ভাঙনের কবলে পড়েছে। অব্যাহত ভাঙনে স্থানীয় জামে মসজিদটি হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে নদীর অবস্থান একেবারে গ্রামের কাছে চলে এসেছে। এ অবস্থায় মসজিদের আশপাশের এলাকার হাজারো জনবসতি, একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছিকলঘাটা-কৈয়ারবিল সড়কসহ গ্রামীণ জনপদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। এতে এলাকাবাসীর মাঝে নতুন করে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অর্ধশত বছরের পুরনো জামে মসজিদ ও গ্রামের জনবসতি রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ ওই পয়েন্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যানের সুপারিশসহ হাজিপাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শহীদ উল্লাহ পাউবোর কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন।

লক্ষ্যারচর ইউপির চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কাইছার বলেন, ইউনিয়নে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে হাজিপাড়া পয়েন্টে ৩৩ হাজার ভোল্ডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। হাজিপাড়ার মসজিদ, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক গ্রামীণ সড়ক, ফসলি জমি, স্কুল, মাদরাসাসহ হাজারো জনবসতি ভাঙনের কবলে পড়েছে।

চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, পাউবো চাইলে মসজিদের পাশে চলমান প্রকল্পের আওতায় মসজিদটি রক্ষায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে। এতে মসজিদটি নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া শাখা কর্মকর্তা তারেক বিন সগীর বলেন, লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের হাজিপাড়া পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর ভাঙন প্রতিরোধে বর্তমানে ২০০ মিটার পাথরের ব্লক দিয়ে টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের শুরুতে মসজিদ এলাকাটি সম্পৃক্ত করতে চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ পর্যাপ্ত না হওয়ায় শুধু মাত্র বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এলাকাটি অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। তারপরও মসজিদ এলাকাটি রক্ষার্থে জরুরি প্রকল্পের আওতায় ১০০ মিটার এলাকাজুড়ে নতুনভাবে জিওব্যাগ বসানোর জন্য টাকা বরাদ্দ চেয়ে ইতোমধ্যে পাউবোর উপর মহলে পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত হলে সেখানে কাজ শুরু করা হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/এমএস

আরও পড়ুন