ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মৃত্যু, অভিযুক্তের শাস্তি দাবি

জেলা প্রতিনিধি | টাঙ্গাইল | প্রকাশিত: ০৫:৫৫ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৮

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মনিরা আফরোজের অবেহেলায় সাপে কাটা রোগী আবু সাইদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার। এ সময় অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তি দাবি করেন পরিবার।

মৃত আবু সাইদ কালিহাতীর চড় ভাবলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের অডিটরিয়াম হল রুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মৃত আবু সাইদের পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে মৃত আবু সাইদের ছেলে শহিদুল ইসলাম শান্ত অভিযোগ করে বলেন, গত ১৬ জুলাই সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় আমার বাবাকে সাপে কাটে। দুপুর আড়াইটায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মনিরা আফরোজের অধীনে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় বাবার পায়ের দুই পায়ের বাঁধন খুলে দেয়া হয়। কিছুক্ষণ পর বলা হয়, হাসপাতালে সাপে কাটার রোগীর ভ্যাকসিন নেই।

তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. শরিফ হোসেন খানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে সাপে কাটার ভ্যাকসিন না থাকার বিষয়টি জানালে তিনি হাসপাতালে ভ্যাকসিন আছে বলে আমাকে নিশ্চিত করেন। সেইসঙ্গে সাপে কাটার ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য সিভিল সার্জন নিজে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের সহকারী পরিচালককেও বিষয়টি জানান।

সিভিল সার্জন ফোনে ভ্যাকসিন দেয়ার কথা বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন চিকিৎসক মনিরা আফরোজ। সিএস বললেই দিতে হবে, আপনি হাসপাতাল ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলেন সাফ জানিয়ে দেন চিকিৎসক মনিরা আফরোজ। তখন আমি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) সদর উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলি। তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে জানান। এ সময় তিনি আমাকে আশ্বস্ত করে বলেন, আরএমও’র সঙ্গে কথা বলছি; ব্যবস্থা হয়ে যাবে। পরে আমি চিকিৎসক মনিরা আফরোজের সঙ্গে দেখা করলে তিনি বলেন, আরএমও’র সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কিন্তু আমি এন্টি স্নেক ভ্যাকসিন দিতে পারব না। পরবর্তীতে বিকেল ৫টার দিকে তিনি আমার বাবাকে ঢাকা অথবা ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলেন। অবস্থার অবনতি হলে আমরা তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে যাই। ময়মনসিংহ হাসপাতালে রাত পৌনে ৮টায় তাকে ভর্তি করা হয়। পরে রাত সোয়া ৮টায় তার মৃত্যু হয়।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মনিরা আফরোজের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- মৃত আবু সাইদের স্ত্রী শরিফা বেগম, বড় ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম শান্ত, ছোট ছেলে মো. সোহেল রানা, মেয়ে শান্তা ইসলাম, টাঙ্গাইল স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ও সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/জেআইএম

আরও পড়ুন