ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পঞ্চগড়ের পজেটিভ হলো রংপুরে নেগেটিভ

জেলা প্রতিনিধি | পঞ্চগড় | প্রকাশিত: ০৪:২৯ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৮

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের একটি ভুল প্যাথলজি রিপোর্টের কারণে এক প্রসূতি মা চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর প্রভাবে পরবর্তীতে নবজাতকের সমস্যার আশঙ্কা করেছে পরিবার।

হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের টেকনোলজিস্ট এই ভুল রিপোর্ট দেন। এ নিয়ে রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রসূতির স্বামী বিপ্লব হাসান।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, সদর উপজেলার সাহেবিজোত এলাকার বিপ্লব হাসান গত ১৭ জুলাই তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী শ্যামলী আক্তারের প্রসব ব্যথা শুরু হলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ সময় চিকিৎসক তাকে হেপাটাইটিস-বি-সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পরামর্শ দেন। পরীক্ষার রিপোর্টে হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট লাভলি আক্তার (HBS Ag) পজেটিভ চিহ্নিত করে রিপোর্ট দেন। রিপোর্টের ভিত্তিতে শ্যামলী আক্তারের বেডের সামনে (HBS Ag) পজেটিভ লিখে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়।

এরপর থেকে হাসপতালের কোনো নার্স কিংবা চিকিৎসক রোগীর কাছে যাননি। একপর্যায়ে যথাযথ চিকিৎসাসেবা না দিয়ে প্রসূতিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়ে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

এ সময় রোগীর প্রসব ব্যথা বাড়তে থাকলেও প্রসূতিকে হাসপাতাল থেকে জোড়পূর্বক বের করে দেয়া হয়। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের রিপোর্ট দেখে শুরুতে তাকে ভর্তি করা হয়নি।

অনুরোধের একপর্যায়ে সেখানকার পরিপাকতন্ত্র লিভার ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শাখাওয়াত হোসেন আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। তার কথামতে, রংপুরের আপডেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কনসালট্যান্ট মোস্তাফিজুর রহমান নতুন রিপোর্টে (HBS Ag) নেগেটিভ উল্লেখ করেন।

হেপাটাইটিস-বি-নেগেটিভ শনাক্তের পর প্রসূতিকে চিকিৎসক আবারও পঞ্চগড়ে স্থানীয় কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে প্রসূতিকে স্থানীয় নিউ লাইফ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে স্থানীয়ভাবে পরীক্ষার পরামর্শ দিলে নর্দার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আবারও পরীক্ষা করা হয়। সেখানকার রিপোর্টেও হেপাটাইটিস-বি-নেগেটিভ উল্লেখ করা হয়। এরপর শনিবার ওই ক্লিনিকে অপারেশনের মাধ্যমে শ্যামলী আক্তার একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সদর হাসপাতালের মতো একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুল রিপোর্টে প্রসূতি মাসহ পরিবারের সদস্যরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। এতে নবজাতকের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। এ জন্য মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট লাভলি আক্তার ভুল রিপোর্টের কথা অস্বীকার করে বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা করে (HBS Ag) পাওয়ায় পজেটিভ রিপোর্ট দেয়া হয়। যেকোনো টেস্টের ক্ষেত্রে এক প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে পজেটিভ বা নেগেটিভ হতে পারে।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি ছুটিতে রয়েছি। বিকেলে পঞ্চগড়ে আসব। রিপোর্টটি কোন পক্রিয়ায় করা হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। অনেক সময় রিপোর্ট ভুল দেখাতে পারে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সফিকুল আলম/এএম/পিআর

আরও পড়ুন