১৩ কি.মি.সড়কে ৩৯ হাজার গর্ত!
কুয়াকাটার মৎস্য বন্দর আলীপুর বাজার থেকে চাপলী বাজার হয়ে অনন্তপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং উঠে ৩৯ হাজার খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকসহ হাজার হাজার পথচারী। যাত্রীসহ ধীরগতির গাড়িগুলো পড়ছে বিড়ম্বনায়। গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে মাঝপথে বিপাকে পড়তে হচ্ছে পর্যটকদের।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড়, মাঝারি অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। সড়কটির বেহাল দশায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে যাত্রীরা। পর্যটন এলাকার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে সড়কটির বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, সড়কের ওপরের অংশ ভেঙে ইটের খোয়া বেরিয়ে পড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। কোনো কোনো পয়েন্টে দু’পাশের অংশ ভেঙে সংকুচিত হয়ে গেছে সড়ক। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পড়ছে যানবাহন। এ সড়ক দিয়ে পর্যটকরা দেখতে যায় মিশ্রিপাড়ায় এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম সীমাবৌদ্ধ মন্দির। পাশাপাশি সূর্যোদয়ের বিরল দৃশ্য দেখতেও এ সড়ক ব্যবহার করে গঙ্গামতির সূর্যোদয় স্পটে ছুটে যাচ্ছে দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুরা। গোড়াআমখোলা পাড়ায় এ সড়কের পাশেই অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন।

এছাড়া কলাপাড়া উপজেলা সদরের সঙ্গে বিকল্প সড়ক হিসেবে সংযোগ সৃষ্টি করেছে এই সড়ক। বালিয়াতলী, ধূলাসার, গঙ্গামতি, চরচাপলী, মিশ্রিপাড়া ও লক্ষ্মীবাজার এলাকায় উৎপাদিত শাক-সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য এই সড়ক দিয়ে মহিপুর, আলীপুর ও কুয়াকাটায় বাজারজাত করা হয়। অথচ পর্যটক ও জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বেহাল দশা নিরসনে যেন কেউ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর সড়কটি নির্মাণ করেছে। পরবর্তীতে কার্পেটিং করা হলেও বর্তমানে তা ভেঙে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সড়কটির নাজুক অবস্থা দেখে কুষ্টিয়া থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সাইদুর রহমান রাজু বলেন, কুয়াকাটার আকর্ষণে ছুটে এসেছি। মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধমন্দির দেখতে যাব। কিন্তু গাড়ি গর্তে পড়ে টায়ার পাংচার। সড়কের যে অবস্থা তা দেখে দ্বিতীয়বার কেউ এখানে আসবে বলে মনে হয় না।
সবজি ব্যবসায়ী আ. মান্নান বলেন, ভ্যানে শাক-সবজি বোঝাই করে আলীপুর বাজারে যাচ্ছি। পথিমধ্যে গর্তে পড়ে ভ্যান উল্টে যায়। শাক-সবজি সব নষ্ট হয়ে যায়। আমি নিজেও আহত হয়েছি। দীর্ঘদিন সড়কটির এ অবস্থা হলেও যেন দেখার কেউ নেই।

কলেজ শিক্ষার্থী লাইজু প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করেন। তিনি বলেন, সড়কটি এখন মরণফাঁদ। গাড়ির প্রচণ্ড ঝাঁকুনি। একটা গাড়ি গর্তে পড়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। পরে ইঞ্জিন ঠিক না হওয়ায় অন্য গাড়িতে কলেজে যেতে হয়েছে। এই ভোগান্তি থেকে আমরা মুক্তি চাই।
এ সড়ক সংলগ্ন কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজ অবস্থিত। ওই কলেজের অধ্যক্ষ সিএম সাইফুর রহমান যাতায়াতে ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই অঞ্চলের ছেলে-মেয়েরাই কলেজে লেখাপড়া করতে আসে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয়। অচিরেই সড়কটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনা করে মেরামতের জন্য ১০ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে টেন্ডার ডেকে সড়কটি সংস্কার করা হবে। এতে দুমাস সময় লেগে যেতে পারে।
এএম/জেআইএম