ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

প্রতিদিন ৯০ কেজি দুধ দেয় রেবেকার ৪ গরু

জেলা প্রতিনিধি | যশোর | প্রকাশিত: ০৬:১০ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৮

চার গাভিতে চলছে রেবেকা খাতুনের সংসার। চারটি গাভি প্রতিদিন ৯০ কেজি দুধ দেয়। এই দুধ বিক্রির টাকা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটছে তার।

জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর আগে রেবেকা খাতুনের স্বামী মারা যান। এরপর থেকে এই গাভি পালন তার একমাত্র অবলম্বন। এ দিয়ে ছেলেকে মাস্টার্স পাস করিয়েছেন, মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। চার শতক জমিও কিনেছেন।

গাভির বাছুরের গায়ে হাত বুলাতে বুলাতে এভাবেই জীবন-সংগ্রামের গল্প বলে গেলেন যশোর সদর উপজেলার মোবারককাটি গ্রামের বাসিন্দা রেবেকা খাতুন (৫০)।

বৃহস্পতিবার রেবেকা নিজের খামারের বাছুর নিয়ে এসেছিলেন শংকর জাতের বাছুর প্রদর্শনীতে। জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও বেসরকারি সংস্থা এসিডিআই ভোকার ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ লাইভস্টক প্রোডাকশন ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন প্রকল্পর যৌথ উদ্যোগে যশোরের শংকরপুরে অনুষ্ঠিত হয় শংকর জাতের এ বাছুর প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে ২৪ জন খামারি শংকর জাতের বাছুর প্রদর্শন করেন।

Jessore-cow

প্রদর্শনীতে আসা আরেক খামারি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল ওহাব বলেন, চার বছর আগে দুটি বকনা বাছুর ৩০ হাজার টাকায় কিনেছিলাম। এ পর্যন্ত দেড় লাখ টাকার বাছুর বিক্রি করেছি। দুটি গাভি বর্তমানে ১০ কেজি দুধ দেয়। উন্নত জাতের গাভি পালন করে তিনি সংসারে সুখের মুখ দেখেছেন।

আরেক খামারি যশোর সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের চারটি বাছুর পালন করছি। দুটোর দাম ১ লাখ টাকা উঠেছে। বাকি দুটো ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু বিক্রি করিনি। পালন করছি। ৫ বছর আগে ৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি বকনা বাছুর কিনেছিলাম। সেই বাছুর গাভি হয়েছে। এ পর্যন্ত চারটি বাছুর দিয়েছে। গাভি প্রতিদিন ১৫ লিটার দুধ দিচ্ছে। ৫০ টাকা কেজি দরে দুধ বিক্রি করি। দুধ বিক্রির টাকায় সংসার চলছে।

শুধু রেবেকা খাতুন, আবদুল ওহাব কিংবা আতিয়ার রহমানই নয়, তাদের মতো অনেকে শংকর জাতের বাছুর পালন করে দুধ ও মাংস উৎপাদন করছেন। এতে যেমন তারা স্বাবলম্বী হয়েছেন, তেমনি আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তপনেশ্বর রায়।

Jessore-cow

উন্নত জাতের গবাদি পশু পালনে খামারিদের উৎসাহিত করতে যশোর শহরের শংকরপুরে প্রাণিসম্পদ দফতরের উদ্যোগে শংকর জাতের বাছুর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতরের উপ-পরিচালক কল্যাণ কুমার ফৌজদার।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবতোষ কান্তি সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- এসিডিআই ভোকার ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ লাইভস্টক প্রোডাকশন ফর ইম্প্রুভ্ড নিউট্রিশন প্রকল্পের চিফ অফ পার্টি মুহাম্মদ নুরুল আমিন সিদ্দিকী। প্রদর্শনীতে যশোর সদরের ২৪ জন খামারি অংশ নেন। এটি সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তপনেশ্বর রায়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার বলেন, খামারিদের উন্নত জাতের বাছুর পালনে উদ্বুদ্ধকরণে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বাছুর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। মূলত খামারিদের সচেতন করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাণিজ আমিষের (দুধ ও মাংস) উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি খামারিরা যেন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে আগ্রহী ও সক্ষম হয় সেই লক্ষ্যে কাজ করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

মিলন রহমান/এএম/জেআইএম

আরও পড়ুন