ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

২ জেলেকে চোর সাজানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) | প্রকাশিত: ০৬:২৯ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০১৮

কুয়াকাটার দুই জেলেকে প্রতিহিংসামূলক চোর সাজানোর অভিযোগ আনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীরা। সমাজে হেয়পতিপন্ন করার লক্ষ্যে চোর সাজানোর ফলে তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুল-মাদরাসায় যেতে পারছে না। এতে করে সন্তানদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

রোববার সকাল ১০টার দিকে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জেলে মো. সরোয়ার গাজী ও নজরুল ইসলাম শরীফ লিখিত বক্তব্যে এমনটাই দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে তারা আরও উল্লেখ করেন, মৎস্য বন্দর আলীপুর বাজার ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিক রাজা মোল্লার নির্দেশে গত ৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুয়াকাটা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের খুরমাতলা এলাকায় অপর জেলে মামুন ঘরামীকে আনতে যায়। জেলে মামুন ঘরামীসহ তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ কাজী, সোলেমান গাজী, রুহুল আমিন মোল্লা তাদের তিন জেলেকে চোর সন্দেহে মারধর করেন। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাগর মোল্লার বাড়িতে নিয়ে যায়। সাগর মোল্লা পূর্ব প্রতিহিংসার জের ধরে জেলে সরোয়ার ও শরীফকে মারধর করে পুলিশে দেয় এবং মামুন ঘরামীকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের আদালতে পাঠায়।

তাদের দাবি, মামুন ঘরামী কাউন্সিলর সাগর মোল্লার অনুসারী বিধায় তাকে ছেড়ে দেয় এবং সরোয়ার গাজী তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অনুসারী হওয়ায় উদ্দেশ্যমূলক পুলিশে দেয়। জেলে শরীফের সঙ্গে ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ গাজীর ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে চোর সাজিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।

এ বিষয়ে জেলে নজরুল ইসলাম শরীফ বলেন, আমার ছেলে মনির শরীফ কুয়াকাটা দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনার পর থেকে সে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমি চোর না হয়েও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমি এর বিচার চাই।

অপর জেলে সরোয়ার গাজী বলেন, এ ঘটনার পর থেকে তার ছেলে-মেয়েরাও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। স্কুলে গেলে তারা সহপাঠিদের দ্বারা বঞ্চনার শিকার হয়।

এ বিষয়ে ট্রলার মালিক রাজা মোল্লা জানান, ওই দুই জেলে দীর্ঘ বছর তার ট্রলারে সমুদ্রে মাছ শিকার করে আসছে। তিনি দাদন টাকা দিয়ে মামুন ঘরামীকে আনতে পাঠিয়েছিলেন। তারা চোর না পরিস্থিতির শিকার।

অভিযোগের বিষয়ে কাউন্সিলর সাগর মোল্লা বলেন, স্থানীয় লোকজন তাদেরকে চোর সন্দেহ করে আমার বাসায় নিসে আসেন। আমি কোনো অভিভাবক না পেয়ে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করি। মামুন ঘরামী বাসার ফেরার পথে তার বাবার সঙ্গে দেখা হয় বিধায় তাকে তার বাবার হাতে তুলে দিয়েছি।

কাজী সাঈদ/আরএ/পিআর

আরও পড়ুন