অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ব্যবস্থা নেয়ায় বাস চলাচল বন্ধ
ছবি-ফাইল
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী এক্সপ্রেসের এক টিকিট বিক্রেতাকে জরিমানার পর ওই রুটে চলাচলরত সব পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। এই অবরোধে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈশ্বরদী-ঢাকা, ঈশ্বরদী-পাবনা ও ঈশ্বরদী-বাঘা-রাজশাহী হয়ে চলাচলরত বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা।
বিকেলে রেলগেটের সামনে অবস্থান নেয়া শতাধিক শ্রমিককে বিভিন্ন ধরনের স্লোগানও দিতে দেখা গেছে। শ্রমিকরা জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে এক টিকিট বিক্রেতাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় আশফাকুল ইসলাম নামে এক পরিবহন শ্রমিক জানান, ট্রাফিক পুলিশও ‘নানা অজুহাতে’ নিয়মিতই তাদের হয়রানি করেন।
তিনি বলেন, আমরা পেটের দায়ে কাজ করি। প্রতিদিনই নির্দিষ্ট হারে টাকা মালিকের হাতে দিতে হয়, দিতে না পারলে উল্টো আমাদের মজুরি কেটে রাখা হয়। এ অবস্থায় রাস্তায় গাড়ি নামালেই যদি জরিমানা গুণতে হয় তাহলে তো এই কাজ করে ভাত জোটানো সম্ভব না।
বাস টার্মিনালের সামনে গাড়ির জন্য অপেক্ষারত কয়েকজন যাত্রী জানান, বাঘা থেকে এসে অনেকেই সেখানে আটকে গেছেন। শ্রমিকরা যাত্রীদের নামিয়ে বাস ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
পাবনা এক্সপ্রেসের যাত্রীরাও একই কথা বলেছেন। বাস বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়া অনেক যাত্রীকেই পায়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে।
শ্রমিকদের উদ্যোগে রেলগেট গোল চত্বরের সামনে রাস্তার পাশে ঈশ্বরদী এক্সপ্রেস, পাবনা এক্সপ্রেস ও সনি পরিবহনের বাস থামিয়ে রাখা হয়েছে।
পাবনা জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ঈশ্বরদী শাখার সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতিবার বাস ভাড়া বাড়ানোর পর কিছুটা নিয়ম-অনিয়ম হয়। এবার ঈদ উপলক্ষে বাস ভাড়া বৃদ্ধির পর বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট শ্রমিককে জরিমানা করলেন। এরকম একটি ঘটনার পর চালক ও শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দেয়।
ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোবায়ের হোসেন মোবাইল কোর্ট বসিয়েছিলেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে জরিমানা করলে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করে।
আলাউদ্দিন আহমেদ/এমএএস/আরআইপি