বুকের ধনকে কবরে শুইয়ে দিয়ে এলেন বাবা
কোলে করেই ছোট্ট আকিফাকে কবরস্থানে নিয়ে গেলেন বাবা। পরে অন্ধকার কবরে বুকের ধনকে একা ফেলে চলে আসেন সবাই।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় কুষ্টিয়ার চৌড়হাস কবরস্থানে বাসের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে নিহত আকিফার মরদেহ দাফন করা হয়।
দাফনের পর শিশু আকিফার বাবা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, টাকা কিংবা ক্ষমতার কাছে নত হব না। কোনো আপস মীমাংসায়ও যাব না।
এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ওই বাসের চালক এবং দুই সহযোগীকে আসামি করে আকিফার বাবা হারুন উর রশিদ কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেছেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা আইনে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় ৩০৪ ধারাসহ আরও কয়েকটি ধারা রয়েছে। তবে ৩০২ ধারায় মামলাটি হয়নি। আসামি ধরার ব্যাপারে কুষ্টিয়া থানা-পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে শিগগিরই আসামিদের ধরা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস মোড় এলাকায় আকিফাকে কোলে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন তার মা রিনা খাতুন। থেমে থাকা একটি বাসের সামনে দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় বাসটি কোনো ধরনের হর্ন না দিয়েই আচমকা মা ও সন্তানকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে মায়ের কোল থেকে ছিটকে রাস্তায় গিয়ে পড়ে আকিফা।
প্রথমে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে সে।
এফএ/এমএস