ট্রেন যাওয়ার সময় খুলে পড়ে রেললাইনের নাট
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া রেল ক্রসিংয়ে রেলের চেক লাইনের সঙ্গে যুক্ত থাকা দুই পাশের নাট খুলে যাচ্ছে। ট্রেন ক্রসিংয়ের সময় খুলে পড়ছে এসব নাট। সেইসঙ্গে দোলে পুরো রেললাইন।
তবুও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন। সেইসঙ্গে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ওই রেল সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, রেল সড়কটিতে কমন, মিটার ও ব্রডগেজ নামে তিনটি লাইন রয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে ধেরুয়া এলাকায় রেল লাইনের স্লিপারের সঙ্গে ৪২ ফুট করে চেক রেল যুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যেকটি চেক রেল ২৭টি করে নাট দিয়ে আটকানো।
গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও ঈদের আগে-পরে মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহন চলায় রেল লাইনের নিচে ও উভয়পাশ থেকে ইট-পাথর সরে যায়। ফলে যানবাহন চলাচলের সময় ক্রসিং এলাকায় প্রচণ্ড ঝাঁকুনি হয়। এতে চেক রেলের নাট ভেঙে খুলে পড়ছে। এর মধ্যে মাঝখানের স্লিপারের ১১টি ও দুই পাশের আরও তিনটিসহ ১৪টি নাট খুলে গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মির্জাপুর রেল স্টেশনের পূর্বপাশ থেকে গোড়াই নয়াপাড়া পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার রেল সড়কের দেখাশোনার জন্য মতিউর রহমান নামে একজন লাইন মিস্ত্রি রয়েছেন। তার নিয়ন্ত্রণে আরও পাঁচজন লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অভিজ্ঞ লোক থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ঝুঁকি নিয়ে রেল ও যানবাহন চলাচল করছে।
এছাড়া চেক রেলের আনুমানিক ১৫ ফুট দূরে রেল লাইনের নিচ থেকে মাটি দেবে যাওয়ায় ট্রেন যাওয়ার সময় কমনগেজটি দোলে। বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু রেল সংযোগ সড়কে প্রতিদিন ১৪-১৫টি ট্রেন ২৮-৩০ বার চলাচল করে বলে ধেরুয়া রেল ক্রসিংয়ের গেইটম্যান সুরুজ মিয়া, আনন্দ মোহন পাল, মামুন হাসান, সিদ্দিক ও আলিফ জানিয়েছেন।
মহাসড়কে চলাচলরত ট্রাকের চালক ছোরহাব মিয়া বলেন, ঢাকা যাওয়ার পথে ফ্লাইওভার দিয়ে গেলেও ফেরার পথে মহাসড়কের ধেরুয়া এলাকায় রেল সড়ক পার হতে ঝুঁকিতে পড়তে হয়।
স্থানীয় প্রাইভেটকারের চালক মিঠু সরকার, অ্যাম্বুলেন্স চালক নবী মিয়া বলেন, মহাসড়কের ধেরুয়া এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়।
মোটরসাইকেল চালক মজিবর রহমান, তপন মিয়া, সোহেল মিয়া ও রাজু আহমেদ বলেন, চার চাকার যানবাহন চলাচল করলেও দুই চাকার মোটরসাইকেল নিয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়। মহাসড়কের রেল সড়কের ওই স্থানে অনেক সময় মোটরসাইকেল চাকা পিছলে যায়।
কর্তব্যরত গেইটম্যানেরা বলেন, রেল সড়কে কমনগেজ, মিটারগেজ ও ব্রডগেজ নামে তিনটি লাইন রয়েছে। মিটারগেজ ও কমনগেজের ওপর দিয়ে লালমনিরহাট ও রংপুর এক্সপ্রেস এবং ২-৩টি মালবাহী রেল চলাচল করে। এছাড়া ব্রডগেজ ও কমনগেজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন ১০টি ট্রেন চলাচল করে।

রেল সড়কের ওই স্থানে তিন লাইনে ৪২ ফুট করে চেক লাইন যুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যেকটি চেক লাইনে ২৭টি করে নাট লাগানো আছে। প্রতিটি রেল যাওয়ার সময় লাইন দুলছে। যেকোনো সময় চাকা লাইনচ্যুত হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
রেল লাইনের জ্যেষ্ঠ উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুকুমার বিশ্বাস বলেন, রেল সড়কটির ধেরুয়া এলাকায় পুরাতন পদ্ধতিতে কাজ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই ধরনের মালামাল না থাকায় কাজ করা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন মালামাল পাওয়া যাবে। মালামাল পেলেই মেরামত কাজ শুরু হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এস এম এরশাদ/এএম/আরআইপি
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ ৬ জনকে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম, জয়যুক্ত করে হিসাব বুঝে নেবেন
- ২ জেলগেট থেকে ফের গ্রেফতার বরিশালের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম
- ৩ কুমিল্লায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা, সংঘর্ষ-গাড়ি ভাঙচুর
- ৪ ফজরের নামাজ কেন্দ্রের সামনে আদায় করতে হবে: তারেক রহমান
- ৫ টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০, বাড়িঘর ভাঙচুর