ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জমির দাম বেশি পাবার আশায় ঘর তোলার হিড়িক

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) | প্রকাশিত: ০৫:১৯ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্র বন্দর ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় ঘর তোলার হিড়িক পড়েছে। অধিক মূল্য পাবার আশায় পায়রা পোর্ট সংলগ্ন লালুয়া এবং ধানখালী ইউনিয়নে শতশত পরিবার ঘরগুলো তুলছে। এতে এ উপজেলার কাঠের দোকানগুলোতে কাঠ সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কাঠ মিস্ত্রিদের সংকট থাকায় তারাও নিচ্ছে অধিক মজুরি।

জানা যায়, পায়রা পোর্ট এবং তাপ বিদ্যুৎ এলাকায় সরকার জমি অধিগ্রহণের ফলে জমির তুলনায় ক্ষতিগ্রস্তরা ঘরের মূল্য পাচ্ছে বেশি। ফলে বাকি জমি অধিগ্রহণ করবে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তিন শতাধিক মানুষ নতুন করে ঘর তুলছে। এতে কাঠ বিক্রির দোকানগুলোতে কাঠ সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া কাঠ মিস্ত্রিদের নিয়েও চলছে টানা-হেঁচড়া।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা জানায়, পায়রা সমুদ্র বন্দর এবং তাপ বিদ্যুৎ এলাকায় সরকার চলমান দামের চেয়ে তিনগুন মূল্যে জমি অধিগ্রহণ করছে। ফলে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও জমির মূল্যে বেড়েছে কয়েকগুন হারে। অধিগ্রহণকৃত জমির প্রাপ্ত মূল্যে কলাপাড়ার অন্য এলাকায় জমি ক্রয় করা দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শতশত পরিবার উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে জমি ক্রয় করতে না পেরে তাদের মাথা গোঁজার জায়গা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তবে ঘরের মূল্য জমির মূল্য’র তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি পাওয়ায় মানুষ ঘর তুলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাচ্ছে। ঘর তোলার হিড়িকে একজন কাঠমিস্ত্রি প্রতিদিন ৬০০ টাকা মজুরির পরিবর্তে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা করে নিচ্ছে। এছাড়া কাঠের মূল্যও বেড়ে হয়েছে কয়েকগুন। ঘর তোলাকে কেন্দ্র করে বেচা-বিক্রি বেড়েছে লোহার দোকানসহ টিনের দোকানেও। তারাও এ সুযোগে অধিক মূল্যে বিক্রি করছেন টিন ও লোহা।

kuakata1

এ ব্যাপারে ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এক জমির মালিক তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার মাত্র পাঁচ কড়া জমি ছিল। সরকার তার প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করেছে। তবে সরকার কৃষকদের স্বার্থে ভূমির মূল্য তিনগুন বাড়িয়ে দিলেও টাকা তুলতে বারবার পটুয়াখালী যাতায়াত, অফিসসহ বিভিন্ন প্রকার খরচ হয়ে যায়। ফলে যাও হাতে পাওয়া যায়, তা দিয়ে অন্য জায়গায় ঘর তুলে কিংবা চাষাবাদের জমি ক্রয় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত অপর এক কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, যার জমি কম, তাদের অনেককেই পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তারা প্রাপ্ত টাকায় না পারছে বাসযোগ্য ঘর তুলতে, না পারছে অন্য কোনো উপার্জনের পথ খুঁজে নিতে। তবে সরকার এদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকের পরিবারের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এমএএস/এমএস