গুদাম থেকে ৯৬ বস্তা চাল গায়েব
ফাইল ছবি
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৯৬ বস্তা চাল গুদাম থেকে গায়েব হয়ে গেছে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের ডিলার মিজানুর রহমান ও তার সহযোগী কামরুজ্জামান।
র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়ক রফিউদ্দিন মোহাম্মদ জোবায়ের জানান, উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর রেলগেট সংলগ্ন এলাকার একটি গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুতকৃত ১৬০ বস্তা চালসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় বাদী হয়ে ভৈরব থানায় একটি মামলা করেছে র্যাব। তবে গায়েব হওয়া ৯৬ বস্তা চালের হদিস মেলেনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজির চাল হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য ভৈরব উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১৪ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়।
এর মধ্য শিবপুর ইউনিয়নে একজন ডিলারের নিয়োগ বাতিল হয়ে গেলে ওই ইউনিয়নের দুই ডিলারের বরাদ্দকৃত চাল ডিলার মিজানুর রহমানকে বরাদ্দ দেয়া হয়।
ভৈরব খাদ্যগুদাম থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর ৩৭৬ বস্তা চাল উত্তোলন করে ১২০ বস্তা চাল ছনছাড়া এলাকায় একটি গুদামে মজুত রাখেন মিজানুর রহমান। পাশাপাশি তার সহযোগী কামরুজ্জামানকে দিয়ে ১৬০ বস্তা চাল কালবাজারে বিক্রির জন্য সম্ভুপুর এলাকার একটি গুদামে অবৈধভাবে মজুত রাখেন। এর মধ্যে বাকি ৯৬ বস্তা চাল গায়েব হয়ে যায়।
উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের চাল বিতরণ তদারকি কমিটির সদস্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলফাতুল হেকিম বলেন, ডিলারের উত্তোলনকৃত চালের মজুত আমাকে দেখানো হয়নি এবং ৯৬ বস্তা চাল বিতরণও করা হয়নি।
একই ইউনিয়নের চাল তদারকি কমিটির অপর সদস্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসেদা আকন্দ বলেন, উত্তোলনকৃত ৩৭৬ বস্তা চাল বৃহস্পতিবার কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু এ ঘটনার পর চাল বিতরণ বন্ধ করে দেয়া হয়।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. শরীফ মোল্লা বলেন, শিবপুর ইউনিয়নে একজন ডিলারের নিয়োগ বাতিল হওয়াই দুইজন ডিলারের চাল একজনকে বরাদ্দ দেয়া হয়। ডিলার মিজান বিতরণের সুবিধার্থে উত্তোলনকৃত চাল দুই গুদামে মজুত রাখেন। সেখান থেকে ৯৬ বস্তা চাল গায়েব হয়ে যায়। বিষয়টি গুরুতর অপরাধ। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজি ফয়সাল বলেন, চাল গায়েবের বিষয়টি র্যাব-১৪ ক্যাম্পের কমান্ডার আমাকে জানিয়েছেন। বুধবার ঘটনার রাতে আমি ভৈরবে ছিলাম না। ঘটনাটি তদন্ত করতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওই ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/জেআইএম