ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৫ শিশুকে অপহরণ চেষ্টা : সালিশে ক্ষমা চেয়ে পার

সফিকুল আলম | পঞ্চগড় | প্রকাশিত: ০৭:৫৩ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০১৮

পঞ্চগড়ের বোদায় মাদরাসার পাঁচ শিক্ষার্থীকে অপহরণকলে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অপহরণে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় সালিশ বৈঠক করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হল- চিলাহাটি ইউনিয়নের ভুজারিপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে নুরুল হুদা (১৬), একই গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম শিপন (১৯), এমদাদুল হকের ছেলে রাসেল (১৬), ফজলুল হকের ছেলে সেলিম হোসেন (১৬) ও বানিয়াপাড়া এলাকার আনসারুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ হোসেন (১২)। এরা সবাই শেখপাড়া নুরানি তালিমুল কোরআন মাদরাসার শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, বুধবার (২৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বড়শশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মউর রহমানের নেতৃত্বে শেখপাড়া নুরানি তালিমুল কোরআন মাদরাসা মাঠে এ সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হোসেন মাস্টার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

তবে অপহরণ চক্রের মূল হোতা সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন প্রধানসহ অন্যদের বিচার দাবি করেছেন শিক্ষার্থীদের পরিবার।

স্থানীয়রা জানান, বড়শশী ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের নুরানি তালিমুল কোরআন মাদরাসার ওই পাঁচ শিক্ষার্থীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে ঢাকা নেয়া হচ্ছিল। শিশুদের পরিবার ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে রুহুল আমিন প্রধান মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেবীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ঢাকাগামী নাদের এন্টার প্রাইজ নামের একটি বাসে তাদের তুলে দেয়। রুহুল আমিনের ছেলে হুমায়ুন কবির বাদশা ঢাকার গাবতলী থেকে তাদের নিয়ে যাবেন বলে সুপারভাইজাকে জানিয়ে তিনি গাড়ি থেকে নেমে পড়েন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের না পেয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাদের খোঁজ শুরু করেন। এক সময় গোপনে খবর পেয়ে মাদরাসার মুহতামিম ক্বারী মাওলানা এনামুল হক এনামসহ অভিভাবকরা তাদের নদের কাউন্টার থেকে উদ্ধার করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

Panchagarh-Child-Kidnap

অভিযোগ রয়েছে, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও শিশুদের অভিভাবকরা এ বিষয়ে পুলিশের আশ্রয় নিতে চাইলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীরা তাতে বাধা দেন।

এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি করে সালিশ করেন প্রভাবশালীরা। বৈঠকে মূল হোতা রহুল আমিন প্রধান ও তার ছেলে খোকন ইসলাম দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আপোষ করা হয়।

এর আগেও ওই এলাকা থেকে এক কিশোরকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পায় ওই কিশোর। সম্প্রতি জেলার সদর উপজেলার জগদল থেকেও এক মাদরাসা ছাত্রকে অপহরণ করা হয়।

অপহরণ চেষ্টার শিকার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ইসাহাক আলী ও রুবি বেগম বলেন, ঢাকায় গেলে ছেলেদের আর পাওয়া যেত না। তাদের পাচার করা হতো। আমরা এ চক্রের সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

বড়শশী শেখপাড়া নুরানি তালিমুল কোরআন মাদরাসার মুহতামিম ক্বারী মাওলানা এনামুল হক এনাম বলেন, ‘আমাকে বিপদে ফেলার জন্য পাঁচ ছাত্রকে অপহরণ করা হচ্ছিল। স্থানীয়ভাবে যে শালিস হয়েছে তাতে আমরা অসন্তুষ্ট।’

চলাহাটি ইউপি চেয়ারম্যান কামাল মোস্তাহারুল হাসান নয়ন বলেন, ‘রুহুল আমিন প্রধানসহ এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। চেয়েছিলাম তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। কিন্তু স্থানীয়ভাবে শাসিলের মাধ্যমে তাদের ক্ষমা করা হয়েছে।’

জেলা পরিষদের সদস্য ও মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মউর রহমান বলেন, ‘দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বয়স্ক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

বোদা থানার ওসি একেএম নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়েছে বলে জেনেছি। তবে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’

সফিকুল আলম/এএইচ/পিআর

আরও পড়ুন