যুবলীগ নেতাকে ফাঁসাতে দুই কৃষকলীগ নেতার কাণ্ড
বগুড়ার শিবগঞ্জে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো কৃষক লীগের দুই নেতা ফেঁসে গেছেন। বুধবার বিকেলে শিবগঞ্জ থানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে পুলিশ শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক বিপুল এবং একই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ওবাইদুলকে গ্রেফতার করেছে। শিবগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু হানী মোল্লা জানান, তিনি মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য। স্থানীয় কিছু লোক তাকে অনেকদিন ধরেই নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করে আসছে। এমনকি মাদক দিয়ে ফাঁসানো হবে এমন পরিকল্পনাও করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে এ ধরনের খবর পেয়ে বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানানোর জন্য বুধবার শিবগঞ্জ থানায় যান।
তিনি বলেন, থানার ভেতর মোটরসাইকেল রেখে দারোগাদের কক্ষে গিয়ে সাঙ্গাৎ করার প্রায় ঘণ্টা খানেক পর যখন বের হই তখন একজন এএসআই আমাকে জানান, মেম্বার সাহেব আপনার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। আপনার মোটরসাইকেলে ইয়াবা রয়েছে। এরপর আমার মোটরসাইকেলের সামনে হেডলাইটের ওপরের কভারের ভেতর থেকে ১০ পিস ইয়াবা বের করা হয়। তখন আমি ওসি সাহেবকে চ্যালেঞ্জ করি যে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
আমাকে মাদক দিয়ে ফাঁসাবে বলে আমি খবর পেয়েছি এবং সেটাই জানাতে থানায় এসেছি। পরে থানার সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায় কৃষক লীগ নেতা বিপুল এবং ওবাইদুল আমার মোটরসাইকেলে ইয়াবা রেখেছে। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর আমি ওই দু’জনসহ মোট চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করি।
শিবগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান জানান, মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবু হানী মোল্লাকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সিসিটিভির ফুটেজ দেখার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ওই ঘটনায় জড়িত আবু বক্কর সিদ্দিক বিপুল এবং ওবাইদুল নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যেহেতু তারা মাদক এনে অন্যকে ফাঁসাতে চেয়েছিল তাই তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনেই মামলা দেওয়া হয়েছে।
লিমন বাসার/এমএএস/পিআর