খেজুরের নির্ভেজাল গুড়-পাটালি উৎপাদনে শপথ নিলেন গাছিরা
গাছিদের উৎপাদিত খেজুরের নির্ভেজাল গুড়-পাটালি অনলাইনের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন যশোরের পাঁচ তরুণ উদ্যোক্তা। উদ্যাক্তারা শনিবার যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে ‘কেনারহাট ডট কম’ (www.kenarhat.com) অনলাইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও গাছি সমাবেশের আয়োজন করে। প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বলেন, আপনারা শপথ করেন যে, ‘ন্যায্য দাম পেলে খেজুরের রস-গুড়-পাটালি উৎপাদনে আমরা আর ভেজাল দেব না।’ সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৬০ জন গাছি দুই হাত তুলে শপথ বাক্য পাঠ করেন। তাদেরকে শপথ বাক্য পাঠ করান তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, যশোরের বিশুদ্ধ খেজুরের গুড়-পাটালি আনলাইনের মাধ্যমে সারাদেশে পৌঁছে দেয়ার জন্যে যে পাঁচ তরুণ উদ্যোগ নিয়েছেন আমি তাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। খেজুরের গুড় যশোর জেলার ব্র্যান্ড। সরকারিভাবে এ কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। তরুণরা যখন এগিয়ে এসেছেন তখন আমরা স্বাগত জানিয়েছি। এতে তরুণদের যেমন কর্মসংস্থান হবে তেমনি গাছিদেরও জীবন মানের উন্নতি ঘটবে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে যশোরের বিখ্যাত গুড় পাটালির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা এখানকার বিখ্যাত গুড় বিশ্ব বাজারে পৌঁছে দিতে চাই। সেক্ষেত্রে আপনাদের সবার সহযোগিতার দরকার হবে।
অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া হাবুল্লা গ্রামের গাছি মোজাহার মোল্লা বলেন, ‘কেনারহাট’ এর উদ্যোক্তারা ন্যায্য দামে আমাদের বাড়ি থেকে গুড়-পাটালি সংগ্রহ করলে আমাদেরও ভালো হয়। তিন মাইল দূরের বাজারে নিয়ে গুড় বিক্রি করতে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়। বিক্রি হওয়ারও নিশ্চয়তা থাকে না। যে কারণে অনেক সময় পাটালি শক্ত রাখতে চিনিসহ অন্যান্য উপকরণের ভেজাল দিতে হতো। বাড়ি থেকে ন্যায্য দামে গুড় পাটালি সংগ্রহ করলে এখন থেকে আমরা আর কোনো ভেজাল দেব না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন। সভাপতিত্ব করেন কেনারহাটের উদ্যোক্তা হাদি-উজ-জামান রিফাত। অনুষ্ঠানে মূল ধারণা উপস্থাপন করেন আরেক উদ্যোক্তা নাহিদ ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অপর এক উদ্যোক্তা তরিকুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে উদ্যোক্তা হাদি উজ জামান বলেন, আমরা শুধু ব্যবসা করার জন্যই আসিনি। আমাদের আয়ের একটি অংশ গাছির সন্তানদের লেখাপড়ায় ব্যয় করা হবে। গাছিরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে। এতে প্রান্তিক গাছিদের জীবন মানের যেমন উন্নতি ঘটবে তেমনি এতে অন্তত আরও ১৫ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এজন্য আমরা এটাকে সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছি।
মিলন রহমান/এমএএস/আরআইপি