ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভোটের ভাবনা নেই, কেবলই পেটের ভাবনা

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ১২:৫৮ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

প্রায় ২০ বছর আগে সাতবর্গ বেদে পল্লীতে এসেছিলেন দীপালি বেদেনী। কয়েকবছর পর ভোটের তালিকায় নাম ওঠে তার। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে দেশে অনুষ্ঠিত সবকটি নির্বাচনে ভোট দিয়ে আসছেন তিনি।

দীপালির মতো সাতবর্গ বেদে পল্লীর আরও অনেকেই ভোটার হয়েছেন। সংখ্যার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের সাতবর্গ গ্রামের স্থায়ী বেদে পল্লীটিতে এখন ভোটার রয়েছেন দুই শতাধিকেরও বেশি। সংখ্যায় কম হলেও ভোটের সময় কদর বাড়ে অবহেলিত এ সম্প্রদায়ের মানুষের।

শুক্রবার বিকেলে বেদে পল্লীতে দীপালি বেদেনীর সঙ্গে ভোট নিয়ে কথা হয় জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের। সুনির্দিষ্ট কোনো ভাবনা না থাকলেও ভোট যে তার নাগরিক অধিকার সে বিষয়টি খেয়ালে আছে তার। তাইতো ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

দীপালি বলেন, ৩০ তারিখ যে ভোট সেটাও জানি না। কেউ তো এখনো পর্যন্ত ভোট চাইতে আসেনি, তাই জানি না। সবসময় ভোটের এক-দুইদিন আগে এসে ভোট চায় প্রার্থীরা। এবারও হয়তো এক-দুইদিন আগে আসবে ভোট চাইতে। যে ভালো তাকেই ভোট দেব।

Bade-Polli-(2)

তিনি বলেন, ভোটের সময় প্রার্থীরা আমাদের জন্য অনেক কিছুই করবে বলে কথা দেয়। পরে আর তারা আসে না, আমরাও তাদের কাছে যাই না কিছু চাইতে। আমরা রাজনীতি বুঝি না, বুঝি শুধু পেটনীতি। সারাদিন কাজ করে দুই মুঠো খেতে পারলেই আমাদের শান্তি। কে ক্ষমতায় এলো-গেলো সেটা নিয়ে আমাদের চিন্তা নেই। স্বামী-সন্তান নিয়ে শান্তিতে বাঁচলেই হলো।

৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাতবর্গ গ্রামের পূর্বপাড়ার একটি খোলা জায়গায় ‘খুপড়ি’ ঘর করে বসবাস করছেন বেদে সম্প্রদায়ের কয়েকশ মানুষ। সাপ ধরে সেই সাপের খেলা দেখানোই তাদের জীবন ও জীবিকা। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হয়েও সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে অবহেলিত এ সম্প্রদায়ের মানুষগুলো। বেদে সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য নেই আলাদা কোনো কবরস্থান। তাই এ সম্প্রদায়ের কেউ মারা গেলে বিপাকে পড়তে হয় তাদের।

এই পল্লীর বৃদ্ধ জয়নব বেদেনী জানান, কে ভোটে দাঁড়িয়েছে সেটাই জানি না। ভোটের কয়েকদিন আগে প্রার্থীরা আমাদের এখানে আসে। আমাদের জন্য এটা-সেটা করবে বলে কথা দেয়। আমরাও ভোট দেই কিন্তু পরে আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।

আরেক বৃদ্ধ জহিরুল ইসলাম জানান, এখনও পর্যন্ত কোনো প্রার্থী আমাদের এখানে আসেনি। আমাদের সমাজে রাজনীতির তেমন প্রভাব নেই। ভোটের সময় হলে ভোট দেই। আমরা শুধু শান্তিতে থাকতে চাই। সাপের খেলা দেখানোর পাশাপাশি সমাজের অন্য মানুষগুলোর মতো কাজকর্ম করে চলতে চাই। সরকার যেন আমাদের সেই সুযোগ করে দেয় সেটাই একমাত্র দাবি।

Bade-Polli-(3)

বেদে পল্লীর সর্দার মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, আমরা সমাজের অবহেলিত মানুষ। দেশ ডিজিটাল হলেও আমরা সেই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছি না। আমাদের রাস্তা-ঘাটে সমস্যা, মসজিদ-কবরস্থান নেই। কেউ মারা গেলে দাফন করতেও সমস্যা হয়। আমরা এ অবহেলিত সমাজ থেকে উন্নতির দিকে যেতে চাই। সমাজে অন্যরা যেভাবে মর্যাদা নিয়ে বসবাস করছে আমরাও সেভাবে বসবাস করতে চাই। আমাদের দিকে যে সুনজর দেবে আমরা তাকেই ভোট দেব।

দেশ ডিজিটাল হলেও অবহেলিত বেদে সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবনমানের কোনো উন্নয়ন হয়নি। সাপের খেলা দেখিয়ে মানুষের মনোরঞ্জন করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। তাদের জন্য বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা নেই। তবে তারাও চান অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়ে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে। সেজন্য প্রয়োজন সরকারি সহযোগিতা। তবেই প্রকৃত অর্থে বদলাবে অবহেলিত বেদে সম্প্রদায়ের জীবনমান। তারাও ভূমিকা রাখবে দেশের উন্নয়নে।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/এমকেএইচ

আরও পড়ুন