প্রার্থী নিয়ে আ.লীগের সভায় হাতাহাতি
লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদ ইসলাম পাপুলকে নিয়ে দলীয় নেতারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এ সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদের উপস্থিতিতে তুমুল হট্টগোল হয়।
শনিবার দুপুরে রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খোকনের তাজমহল সিনেমা হলের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত দলের জরুরি সভায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

দলীয় সূত্র জানায়, মহাজোটের প্রার্থী মোহাম্মদ নোমান ১৯ ডিসেম্বর নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। দলীয় নেতাদের সমন্বয়হীনতা ও বিশ্বাস ঘাতকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে নোমান এক চিঠি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
নাটকীয়তার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদ ইসলামের (আপেল) পক্ষে কাজ করার জন্য ২১ ডিসেম্বর দলীয় নেতাকর্মীদের চিঠি দেয় মহাজোটের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ড. সেলিম মাহমুদ।
এ উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ শনিবার জরুরি সভার আয়োজন করে। সেখানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ আলী খোকন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহেরসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সভার একপর্যায়ে জেলা সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বক্তব্য রাখেন। তিনি মহাজোট প্রার্থী টাকার বিনিময়ে সরে যাওয়ার কথা বলেন। এর জের ধরে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন নেতারা। এ সময় তুমুল হট্টগোল হয়। পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কিছুক্ষণ পরই তা নিরসন হয়ে গেছে। সেখানে বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি।
প্রসঙ্গত, এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ নিয়ে আবুল খায়ের ভূঁইয়া লড়ছেন। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি ও এ আসনের দুই বারের এমপি।
কাজল কায়েস/এএম/এমকেএইচ