শ্রমিকদের ৫ মাসের বেতন না দিয়ে জুট মিল বন্ধ
বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ না করে ৭ মাস ধরে জুট মিল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এতে ৩ হাজার ৮৩ জন শ্রমিক তাদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এই শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আলহাজ জুট মিল কর্তৃপক্ষ এ অমানবিক কাণ্ড ঘটিয়েছে।
জানা যায়, লাভজনক প্রতিষ্ঠান সরিষাবাড়ী আলহাজ জুট মিল। লাভজনক হলেও বিভিন্ন অজুহাতে জুট মিলের স্থায়ী, বদলি ও চুক্তিভিক্তি ৩ হাজার ৮৩ জন শ্রমিকের ৫ মাসের প্রায় ৩ কোটি টাকা বেতনভাতা বকেয়া রেখে মিলটি চালিয়ে আসছিল কর্তৃপক্ষ। এ বকেয়া বেতনভাতা পরিশোধের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিল শ্রমিকরা। একপর্যায়ে মিলটি চালু রেখে আন্দোলনের ডাক দেয় শ্রমিকরা। এ আন্দোলন চলাকালে হঠাৎ করে গত ২১ জুলাই রাতে গোপনে জুট মিলের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য মিল বন্ধের নোটিশ লাগিয়ে গা-ঢাকা দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে শ্রমিক-কর্মচারীরা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। পরে তারা মিল চালুসহ তাদের বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ ও স্বারকলিপি দিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখে। এ শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকায় মিল কর্তৃপক্ষ বকেয়া বেতন ভাতা দেয়ার আশ্বাস দেন। এর ফলে আন্দোলন তুলে নেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এ আশ্বাস দিলেও গত ৭ মাসে শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি বাস্তবায়ন করেননি মিল কর্তৃপক্ষ। জুট মিলটি বন্ধ হয়ে পড়ায় কাজের সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছেন শ্রমিকরা। কোনো কাজ না থাকায় নারী শ্রমিকরা বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে এবং কর্মক্ষমতা যাদের আছে; পুরুষ শ্রমিকরা রিকশা, ভ্যান ও কৃষি শ্রমিকের কাজ করে কষ্টে জীবন চালিয়ে আসছেন।
জুট মিলের সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন বলেন, জুট মিলের ৩ হাজার ৮৩ জন শ্রমিক রয়েছে। তাদের ৫ মাসের বকেয়া বেতনভাতা প্রায় ৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এ পাওনা পরিশোধ না করেই লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে গত ২১ জুলাই মিলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে গা-ঢাকা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঢাকায় মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মিলটি চালুসহ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য বার বার বলে আসলেও কোনো প্রকার সাড়া দেয়নি তারা। এখনো মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এএম/এমএস