সকালের সূর্য দেখা গেল দুপুরে
পঞ্চগড়ে দ্বিতীয় দফায় শৈত্যপ্রবাহে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বুধবার সকালে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস।
তবে দুপুরে সূর্যের মুখ দেখা যাওয়ায় দুর্ভোগের মাত্রা কমেছে। এর আগে ডিসেম্বরের শেষ দিন থেকে শুরু হয়ে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত ছিল জেলাজুড়ে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ মাঝারি এবং ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। বুধবার সকালে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ অবস্থা জেলায় দ্বিতীয় দফায় মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ ছিল। এ অবস্থা আরও ২-১ দিন থাকতে পারে। এর আগে চলতি শীত মৌসুমের ২ জানুয়ারি সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এরপর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত জেলাজুড়ে বিভিন্ন মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ ছিল।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন সকালের পর থেকে বিকেলে সূর্যের মুখ দেখা গেলেও বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় কনকনে শীত। সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। হাড় কাঁপানো শীতে দিনমজুর, রিকশা, ভ্যানচালক ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ দেখা দেয়। প্রায় দুই লাখ গরিব শীতার্তের বিপরীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৫৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। বুধবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছর একই দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ অবস্থাকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। এই অবস্থা আরও ২-১ দিন থাকবে পারে।
এদিকে, শীতের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমুজুর, রিকশাভ্যান চালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া মহানন্দা পাড়ের পাথর শ্রমিকদের আয় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করছেন এসব মানুষ। কনকনে শীতের মধ্যে নদীতে নেমে তাদের পাথর তুলতে সমস্যা হয়। কৃষি শ্রমিকরা শীতের কারণে ক্ষেতে ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না।
তেঁতুলিয়া তীরনইহাট এলাকার পাথর শ্রমিক ময়নুল ইসলাম বলেন, মহানন্দা নদীতে পাথর উত্তোলন আমাদের একমাত্র পেশা। নদীর পানি থেকে পাথর তুলে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। এখন শীতের কারণে নদীতে নামতে পারছি না। এর আগে প্রতিদিন ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতো। এখন যা পাথর তোলা হয়, তা ৩০০ টাকাতেও বিক্রি করতে পারি না।
জেলা শহরের মিঠাপুকুর এলাকার দিনমুজুর ছলেমান আলী বলেন, এখন এমনিতেই কাজ কম। শীতের জন্য সকালে বের হওয়া কঠিন। বের হলেও ঠিকমতো কাজ পাওয়া যায় না। কাজ পেলেও ঠান্ডার কারণে ভালোভাবে কাজ করা যায় না। এবার শীতের কম্বল পেয়েছি, এ সময় আমাদের আসলে আর্থিকভাবেও সহায়তা দরকার।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, এলাকার দুস্থদের শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষায় কম্বলসহ পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৫৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। শীতকালীন দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সবরকম প্রস্তুতি রয়েছে।
এএম/এমকেএইচ