ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

তিনি বাবা তিনিই মা

জেলা প্রতিনিধি | গাজীপুর | প্রকাশিত: ০৯:১৫ এএম, ০৮ মার্চ ২০১৯

দুই মেয়ে রেখে মারা যান স্বামী। সন্তানদের লেখাপড়া, সংসার চালানোসহ স্বামীর সব দায়িত্ব এসে পড়ে সামছেদা পারভীন বিপলীর উপর। বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরিজীবী স্বামী শফিকুর রহমান আফাজ মারা যাওয়ার সময় স্ত্রী সন্তানদের জন্য টিনসেডের একটি বাড়ি ছাড়া তেমন কিছু রেখে যাননি। কলেজ ও স্কুল পড়ুয়া দুই সন্তান নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছিলেন সামছেদা।

উপায়ান্তর না দেখে সংসার ও সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন নিজের কাঁধে। চাকরি নেন সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ হিসেবে। সেখান থেকে সামান্য যে টাকা পেতেন সেটা আর বাড়ির ৩-৪টি রুম ভাড়া দিয়ে কোনো মতে চালাতে থাকেন সংসার ও সন্তানদের লেখাপড়া।

পারভীন জানান, ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর তার স্বামী মারা যান কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়ে। ১৯৯৩ সালে বিয়ের পর কোলজুড়ে আসে একটি মেয়ে সন্তান। পরে তাদের আরও একটি মেয়ে সন্তান হয়। স্বামীর কিডনির সমস্য দেখা দিলে তাদের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। সঞ্চয় বলে ছিল না আর কোনো অর্থ। স্বামীর মৃত্যুর পর খেয়ে পরে বেঁচে থাকা এবং সন্তানদের লেখাপড়া করানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তাই গৃহবধূ থেকে চাকরির সন্ধ্যানে নেমে পড়েন।

তিনি বলেন, বাবার অভাব কোনো দিনই সন্তানদের বুঝতে দেইনি। আমিই তাদের বাবা আমিই তাদের মা। অনেক চেষ্টার পর জীবনের সঙ্গে সংগ্রাম করে ২০১৬ সালে বড় মেয়ে সঞ্চিতা রহমান শান্তাকে সেনাবাহিনীতে একটি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে বড় মেয়ের বেতন ও আমার বেতনের অর্থ দিয়ে ছোট মেয়ের লেখাপড়া ও সংসার চালানো হচ্ছে। অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছোট মেয়ে নিশিতা রহমানের লেখাপড়া চালিয়ে যাব। ওদের বাবার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবনের সমস্ত সুখ, ইচ্ছে, চাওয়া-পাওয়া ত্যাগ করতে হচ্ছে। তারপরও সন্তানদের মানুষ করতে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাব।

আমিনুল ইসলাম/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন