ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ১২ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কোথায়?

জেলা প্রতিনিধি | সাতক্ষীরা | প্রকাশিত: ১০:২২ এএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৯

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিল পরিশোধ হলেও আসেনি যন্ত্রপাতি। এসব যন্ত্র চলমান অবস্থায় বুঝে পেয়েছেন বলে সার্ভে কমিটি লিখে দিলেও তারা বলছেন স্বাক্ষর তাদের নয়।

গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হাছান মাহমুদসহ তিন সদস্যের একটি টিম সাতক্ষীরা হাসপতাল পরিদর্শনে এসে বরাদ্দকৃত টাকার যন্ত্রপাতি দেখতে চাইলে অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তিন সদস্যের একটি টিম সদর হাসপাতালে আসেন। এরপর জানতে চান, বিগত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দের ওপর ভারী যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সেই টেন্ডার অনুযায়ী ঢাকার মার্কেন্টাইল ট্রেড কো. লি. এসব মালামাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। যথারীতি তারা ১২ কোটি টাকার স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ করেছে এবং তা বুঝে পেয়েছেন মর্মে লিখিত দেয়া হয়েছে। এরপর পরিদর্শনে আসা কর্মকর্তারা বলেন, এসব মালামাল কোথায়? তারা মালামাল দেখতে চান।

সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই সময়ে আমি সিভিল সার্জনের দায়িত্বে ছিলাম না। কে ছিল খুঁজতে গিয়ে দেখি ডা. তৌহিদুর রহমান ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে ১৩ মার্চ ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরায় সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি জানাই তিনিই বিষয়টি বলতে পারবেন। পরে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান, সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, স্টোর কিপার একে ফজলুল হকও আসেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ে।

সেখানে আরও ডাকা হয় যন্ত্রপাতি বুঝে নেয়া সার্ভে কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ জামিল, ডা. আসাদুজ্জামান মেডিসিন ও ডা. শরিফুল ইসলাম সার্জনকে। তাদেরকে দেখানো হয়, আপনারা ভারী এসব যন্ত্রাংশ চলমান অবস্থায় বুঝে পেয়েছেন লিখে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। কোথায় সেসব যন্ত্রাংশ? তখন তারা তিনজনই বিষয়টি জানেন না বলে পরিদর্শন কমিটিকে অবহিত করে বলেন, তাদের স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে। এ স্বাক্ষর তাদের নয়।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের স্টোর অফিসার ডা. জয়ন্ত সরকার বলেন, আমি স্টোর অফিসার হিসেবে মালামাল গ্রহণের পর স্টোর কিপার ফজলুল হক সিভিল সার্জনের অনুমতি নিয়ে তা বিভিন্ন দপ্তরে পাঠাবেন। অথচ এ ধরণের কোনো যন্ত্রপাতি আমি গ্রহণ করিনি। তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান ও স্টোর কিপার ফজলুল হক এসব যন্ত্রাংশ গ্রহণ করেছেন মর্মে অডিট টিম জানিয়েছে। তবে এখন কিছু কার্টন এসেছে তার মধ্যে কি আছে জানি না। সেগুলো আমরা কেউ গ্রহণ করিনি।

তবে এমন ১২ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানের সময়ে উক্ত টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সে অনুযায়ী ঢাকার মার্কেন্টাইল ট্রেড কো. আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। তারা সরবরাহ করেছেন পোর্ট এ্যাবল এক্স-রে মেশিন ৪টি যার প্রতিটির মূল্য ২৩ লাখ টাকা। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন ৪টি, সিলিং ওটি যন্ত্রাংশ এক সেট, নেবু লাইজার মেশিন ১৮টি, স্টিল ল্যাম্প ১টি, চোখ পরীক্ষার মেশিন ১টি। যার দাম প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। রেটিনোস্কপ ১টি, ডেন্টাল যন্ত্রাংশ এক সেট, সাকশান ইউনিট ১টি ও ওয়াটার বাথ রয়েছে। এসব যন্ত্রাংশ চলতি অর্থবছরের বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে এসেছে।

কোনো যন্ত্রাংশই এখানে আসেনি, কিন্তু ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি আসা কিছু মেশিনপত্র বারান্দায় পড়ে আছে।

এখন আসবে কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বলেন, বিদেশ থেকে আনতে হয় তাই দেরি হয়েছে।

এদিকে এসব যন্ত্রাংশ বুঝে নেয়া সার্ভে কমিটির আহ্বায়ক ডা. আসাদুজ্জামান (মেডিসিন) বলেন, এ বিষয়ে আমি বা আমরা কেউ জানি না। কবে কমিটি হয়েছে আর কারা করেছে, কি করেছে, তা বলতে পারবো না। তবে মন্ত্রণালয় থেকে অডিট টিম আসার পর জানতে পেরে বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ করে বিষয়টির প্রতিকার দাবি করেছি।

কমিটির সদস্য সদর হাসপাতালের সাবেক আরএমও ডা. ফরহাদ জামিল জানান, আমাদেরকে ব্যবহার করে কেউ ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান বলেন, বিধি মোতাবেক টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিাকাদার নিয়োগ ও যথাযথভাবে মালামাল এসেছে এবং বুঝে নেয়া হয়েছে। পার্ট পার্ট বিলও পরিশোধ হয়েছে। এখানে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়নি।

আকরামুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম

আরও পড়ুন