ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পরিচর্যার পর অবমুক্ত করা হলো ৭ শকুন

জেলা প্রতিনিধি | দিনাজপুর | প্রকাশিত: ১০:৫৬ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

দিনাজপুরে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা বিলুপ্ত ৭টি শকুনকে অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিনাজপুরে জাতীয় উদ্যান বীরগঞ্জ সিংড়া ফরেস্টের শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে শকুনগুলো অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় শকুনের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতকরণ ও শকুন সংরক্ষণে সচেতনা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচীর আওতায় আলোচনা সভার আয়োজন করে বনবিভাগ ও আইইউসিএন।

সারা বিশ্বে প্রায় ২৩ প্রজাতির শকুন দেখা যায়। এর মধ্যে ৬ প্রজাতির শকুন আমাদের দেশে রয়েছে। ৪ প্রজাতি স্থায়ী আর ২ প্রজাতি পরিযায়ী।

বাংলা শকুন ছাড়াও আছে রাজ শকুন, গ্রীফন শকুন বা ইউরেশীয় শকুন, হিমালয়ী শকুন, সরুঠোঁট শকুন, কালা শকুন ও ধলা শকুন।

Dinajpur

দেশে তিন প্রজাতির শকুন স্থায়ীভাবে বসবাস করত। এর মধ্যে এক প্রজাতি ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্তির পথে দেশি প্রজাতির বাংলা শকুনও। শকুন অধিকাংশই বিপন্ন প্রায়।

গবাদিপশুর চিকিৎসায় ব্যাথানাশক ডাইক্লোফেনাক ও কিটোপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ ব্যবহারে শকুন বিলুপ্তির পথে। ওই ওষুধ দেয়া পশুর মৃতদেহ ভক্ষণ করলে কিডনি নষ্ট হয়ে শকুন মারা যায়।

Dinajpur1

বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা শকুনকে সুস্থ্য করার জন্য দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় উদ্যান সিংড়া ফরেস্টে গড়ে তোলা হয়েছে পরিচর্যা কেন্দ্র। বন বিভাগ ও আইইউসিএনের উদ্যোগে এখানে দীর্ঘ পরিচর্যায় সুস্থ করা হয়েছে ৭টি শকুন। আর একটি শকুন মারা গেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় ৭শ একরের এই বিশাল বনভূমিতে। আবমুক্ত করা শকুনগুলো গ্রীফন ভালচার প্রজাতির শকুন।

Dinajpur

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. বিল্লাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, আইইউএনসির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টিভ ড. রকিবুল আমিন, বগুড়া অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. আব্দুল আউয়াল সরকার, রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান, দিনাজপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুর রহমান ও রামসাগর জাতীয় উদ্যানের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুস সালাম তুহিন প্রমূখ।

আলোচনা সভায় বলা হয়, প্রকৃতির ঝাড়ুদার বলে খ্যাত প্রাণী শকুন সম্পর্কে একসময় মানুষের খারাপ ধারণা ছিল। শকুনকে অশুভ এমনকি মৃত্যুর প্রতীক হিসেবে ভাবা হত। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শকুন অশুভ তো নয়ই বরং মৃত পশু খেয়ে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।

আইইউসিএন বাংলাদেশ এবং বন বিভাগের উদ্যোগে এ আলোচনা সভায় বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশাজীবীর মানুষ অংশ নেয়।

এমদাদুল হক মিলন/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন